Thursday, August 27

আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস

0

আজ ৪ জুলাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। ২৩৭ বছর আগে ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের শাসন থেকে পৃথক হওয়ার জন্য ভোট দেন আমেরিকার দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস। এর দুইদিন পর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। কিন্তু পৃথক হতে ব্রিটেনের সঙ্গে চূড়ান্ত স্বাক্ষর ২ আগস্টে অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যেক বছর চার জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতি বছর চোখ ধাঁধানো আতশবাজি আর জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন মার্কিনিরা। এই দিনটির জন্য জীবন দেন ২৫ হাজার বিপ্লবী আমেরিকান এবং ২৭ হাজার ব্রিটিশ ও জার্মান সেনা।

স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই ১৩টি উপনিবেশ একসঙ্গে ইংল্যান্ডের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে। ভার্জিনিয়া উপনিবেশের জর্জ ওয়াশিংটন ছিলেন প্রধান সেনাপতি। এরই মধ্যে শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ।

আর সেই যুদ্ধে উপনিবেশগুলোর বিজয়ের প্রাক্কালে ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পর পাঁচজনের একটি কমিটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচনা করে। টমাস জেফারসন, জন অ্যাডামস, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ছিলেন এ কমিটির অন্যতম সদস্য। টমাস জেফারসন ছিলেন মূল লেখক।

রচিত ঘোষণাপত্রটি নিয়ে কংগ্রেসে তর্ক-বিতর্ক হয় এবং পরিশেষে ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ঘোষণাপত্রটি কংগ্রেসের অনুমোদন পায় ৪ জুলাই ১৭৭৬ সালে।

ব্রিটিশদের অরাজকতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য ‘প্রতিটি মানুষই সমান এবং একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’ এই বাণীকে সামনে রেখে থমাস জেফারসন লিখলেন স্বাধীনতার বাণী।

আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক পুরোনো মিত্র হলো ফ্রান্স। আমেরিকার আকাশে আজকের যে স্ট্যাচু অব লিবার্টি উঁচু করে মশাল ধরে আছে তার পরিকল্পনা, নকশা, অর্থ সংগ্রহ—সবই হয়েছে ফ্রান্সে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ও বিপ্লবে (১৭৭৫-১৭৮৩) সে দেশের জনগণের বীরোচিত ভূমিকা, দাশ প্রথার অবসান এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্মের পর বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ফ্রান্সের নাগরিকেরা উপহার দিয়েছে এই ভাস্কর্যটি।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি স্বাধীনতার প্রতীক। এই ভাস্কর্য শুধু আমেরিকার জাতীয় প্রতীকই নয় বরং সারা বিশ্বের কাছে মুক্তি বা স্বাধীনতার প্রতীক।

প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের আগে স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে নানাভাবে সজ্জিত করা হয়। যত দিন আমেরিকা থাকবে তত দিন এই ভাস্কর্য স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রর প্রতীক হয়ে থাকবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.