Friday, August 28

আজ সেই ভয়াল দুঃস্বপ্নের ১৫ নভেম্বর

0

কে.এম রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনাঃ আজ সেই দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর। উপকূলবাসীর বিভীষিকাময় এক দুঃস্বপ্নরে দিন। ২০০৭ সালের এই দিনে সুপার সাইক্লোন আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। লন্ডভন্ড করে দেয় প্রকৃতি ও মানবতাকে। ধ্বংসস্তুুপে পরিণত করে সমুদ্র সংলগ্ন বরগুনার সবকটি উপজেলাকে। দুঃসহ স্মৃতি আর বেদনায় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। সিডরের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এর স্মৃতি চিহ্ন আজও উপকূলের মানুষ সিডরের ভয়াবহতা বয়ে বেড়াচ্ছে। সিডরের অগ্নি মুর্তির কথা মনে করে অনেকে এখনো আঁতকে উঠে নিজের অজান্তে। গত কয়েক বছরে সিডর বিধস্থ বরগুনাবাসী ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও দেশীবিদেশী অগনিত এনজিও তাদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবার নাম করে দাতা সংস্থার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ,ও পুর্নবাসনের নামে সরকারি বেসরকারি সংস্থা সঠিকভাবে কাজ না করে লোপাট ও আত্মসাত করেছে বরদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর, দিনটি ছিল বুধবার। রাত যখন ৮টা বাজে তখন উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কথা শুনে আতঙ্কিত বরগুনার বাসিন্দারা। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। সচেতন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করলেও বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। রাত ১০টায় প্রবল বাতাসের সঙ্গে যুক্ত হয় জলোচ্ছ্বাস। শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’। যার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বরগুনা উপকূলের ঘরবাড়ি। ওই রাত এখনও ভয়ানক রাত হিসেবে পরিচিত মানুষের কাছে।

জানা গেছে, সেই ঘূর্ণিঝড়ে মুহূর্তের মধ্যেই উপকূলীয় জনপদগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, ফসলের মাঠ- এমনকি গাছের সঙ্গে ঝুলে ছিল মানুষের লাশ। ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সহায়সম্বল ও স্বজন হারানো মানুষগুলো ফিরে যেতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। সেইদিনের ভয়াবহতা ভুলতে না ভুলতে আবারও আঘাত হানলো ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

২০০৭ সালের এদিনে ঘূর্ণিঝড় সিডরে বরগুনা জেলায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৩৪৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ছিলেন আরও ১৫৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। আর আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০ জন। এছাড়া ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬১টি পরিবারের ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়, ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবাদি পশু মারা যায় ৩০ হাজার ৪৯৯টি, ১ হাজার ২৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৪২০ কিলোমিটার রাস্তা ও ১ হাজার ৭৯৭ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের গর্জনবুনিয়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং আছিয়া বেগম সেই রাতে কয়েকজন স্বজন হারান। সেই স্মৃতিচারণ করে প্রতিবেদককে বলেন, ‘সেই রাতে ৭ জন স্বজন হারিয়েছিলাম আমরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রচণ্ড বাতাসের সঙ্গে যুক্ত হয় জলোচ্ছ্বাস। রাত ১০টার পরই সিডর আঘাত হানে। প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ চারজনকে। অন্যদিকে আছিয়া বেগম তিনজন স্বজনকে হারিয়েছেন সেই রাতে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.