Monday, September 7

আজ সেদিনের অপমানের কথা বলব: মাহী

0

সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘২০০৪ সালে বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর প্রতিনিয়ত রাজনীতির শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে অশ্লীল ভাষায় একতরফাভাবে অভিযোগ করে গেছে। প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিএনপি-জামায়াত অত্যন্ত অপমানজনকভাবে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আমি সংসদে থেকেও সে অভিযোগ খণ্ডন করার সুযোগ পাইনি। আজ ১৪ বছর পর সংসদে ফিরছি। অনেকদিন চুপ করে ছিলাম। এবার (৩০ জানুয়ারি) সংসদে গিয়ে সেদিনের অপমানের কথা বলব। আর চুপ থাকবো না।

রোববার বিকল্পধারা থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দিতে বিকল্প যুবধারা আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পদত্যাগের পরও বি চৌধুরীকে বিএনপি প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করেছে অভিযোগ করে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। এর পরও প্রতিনিয়ত রাজনীতির শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তারা অশ্লীল ভাষায় একতরফাভাবে অভিযোগ করে গেছে।

তিনি বলেন, আমি পার্লামেন্টে থেকেও সে অভিযোগ খণ্ডন করার সুযোগ পাইনি। আমাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। ১৪ বছর পর সংসদে ফিরছি। অনেক দিন চুপ ছিলাম। এবার ৩০ জানুয়ারি সংসদে গিয়ে সেদিনের অপমানের কথা বলব।

সেই সময়ে বি চৌধুরীকে নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্তব্যের সমালোচনা করে মাহী বলেন, ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদত্যাগের পর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে নিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন- ‘ষড়যন্ত্রের শেকড় উপড়ে ফেলেছি’। কিন্তু কী সেই ষড়যন্ত্র তা তিনি কখনও বলেননি। আমরা বলতে চাই- ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক হিসেবে আপনি সেদিন কী কী ভূমিকা রেখেছিলেন সে বিষয়ে।

তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী বলেন, সেদিন আমি সংসদে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাননীয় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। একটি শব্দ উচ্চারণও করতে দেয়া হয়নি। তখন বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘বেইমানির অভিযোগ’ এনে মিথ্যাচার করেছিলেন বিএনপি নেতারা।
পদত্যাগের পর পর বি চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনা সংসদে তুলতে চাইলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। পরে মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে না যাওয়ায় বি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির সংসদীয় দলের সভা। পরে ২০০২ সালের ২১ জুন বি চৌধুরী রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর মাহীও সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন। পদত্যাগের দুই বছর পর বি চৌধুরী বিকল্প ধারা নামে নতুন দল গঠন করেন, ওই দলের মহাসচিব করা হয় তখন বিএনপি ছেড়ে আসা মেজর (অব.) আবদুল মান্নানকে। এবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী ও মেজর (অব.) আবদুল মান্নান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.