Saturday, September 12

আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

0

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ বুধবার (১০ অক্টোবর)। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে।
নজীরবিহীন এ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা পৃথক মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর। যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং আসামিপক্ষ সব আসামির বেকসুর খালাস দাবি করেন। সেদিনই এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের (১০ অক্টোবর) তারিখ ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ৫১১ জনের মধ্যে ২২৫ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এই মামলার বিচার চলাকালে আসামি জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সে হিসেবে বর্তমানে মামলা দুটিতে আসামির সংখ্যা ৪৯ জন।
এই মামলায় মোট ৩১জন আসামি কারাগারে থাকলেও বাকি ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে ৮ জন জামিনে থাকলেও রায়ের দিন নির্ধারণ করার আগে ট্রাইব্যুনাল তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।
ওই ঘৃণ্য হামলার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন ৫ শতাধিক। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তিনি শ্রবণেন্দ্রিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য ২১ আগস্ট হামলা ইতিহাসের সবচাইতে নৃশংস, জঘন্যতম ও বর্বরোচিত হামলা। নিরস্ত্র মানুষের ওপর আর্জেস গ্রেনেডের মতো সমরাস্ত্র ব্যবহার এ উপমহাদেশে আর নেই। তারা এ হামলার সাফল্যের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। আমাদের প্রত্যাশা আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলগণ খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোন হুমকি নেই। তবু কোনও স্বার্থান্বেষী মহল যাতে কোন সহিংসতা না চালাতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের নজরদারি রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কোনও ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশে বিশেষ করে মামলায় রায় হতে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিজস্ব এলাকায় নাশকতা ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে টহল। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন সড়কে র‌্যাব ও পুলিশের বাড়তি টহল গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।
বুধবার সকাল থেকেই এই নিরাপত্তা আরও বেশি জোরদার করা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি রায়ট কার, জলকামানও মোতায়েন করা হবে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এ দিকে রায়ের মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর নাজামুদ্দিন সড়কের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ আদালত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ আদালতসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বাড়তি পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সন্দেহভাজনদের করা হচ্ছে তল্লাশি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.