Friday, July 31

আজ ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জম্মদিন

0

মো. আলী আশরাফ মোল্লা: আজ থেকে ১৫৯ বছর আগে ভারতের পশ্চিমবঙের কলকাতার জোড়াঁসাকোর এক ধণাঢ্য ও ব্রাহ্মণ ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ,১৮৬১ ইংরেজি ৭ মে রোজ সোমবার জোড়াঁসাকোস্থ ৬, দ্বারকানাথ ঠাকুর লাইনের বাড়িতে তার জম্ম হয়। তার বাবার নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আর মাতার নাম সারদাসুন্দরী দেবী। তার বাবা দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন তার বন্ধু তথা সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় প্রবর্তিত ব্রাহ্ম ধর্মের প্রধান সংগঠক ও অনুশাসনকর্তা। রবি ঠাকুর ছিলেন তার পিতা মাতার ১৪ সন্তানের মধ্যে সর্ব কনিষ্টতম সন্তান। আজকের এই দিনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জম্মদিনের কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছেলেবেলা থেকেই তার সাহিত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল। মাত্র ৮ বয়সেই প্রথম কবিতা রচনা করেন। ১৮৭৪ সালে তত্তবোধিনী পত্রিকায় তার অভিলাষ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। আর এটিই ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনা। বিদ্যালয়ের ধরা বাধাঁ শিক্ষাব্যবস্থা তাকে কখনো আকৃষ্ট করে রাখতে পারেনি। নর্ম্যাল স্কুল, বেঙল অ্যাকাদেমি, ওরিয়েন্টাল সেমিনারি ও শেষে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে কিছু কাল পড়াশোনার পর তিনি অবশেষে বিদ্যালয়ে যেতে অস্বীকার করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যে,যেখানের তার বিচরণ নেই। তিনি বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় সমান তালে বিচরণ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক,সংগীতস্রষ্টা, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক,চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী এবং দার্শনিক। তাকে বাংলা সাহিত্যের সর্বশেষ্ট সাহিত্যিক বলা হয়ে থাকে। ররবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ছিল মানবপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, আধাত্মচেতনা, বাস্তব চেতনা ও প্রগতিচেতনা। তার ছদ্দনাম ছিল ভানুসিংহ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে গ্রুরুদেব, কবিগুরু এবং বিশ্বকবি উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা হচ্ছে ৫২ টি।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্যে ও সংগীতে রবীন্দ্রনাথ এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। মানবতার কবি রবি ঠাকুর ৩৮ টি নাটক, ১৩ টি উপন্যাস রচনা করেছেন। ৯৫ টি ছোট গল্প ও তিনি রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় দুইহাজার গান রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই একমাত্র ব্যক্তি যার লেখা দুই টি সংগীত দুই দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তার লেখা আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। আবার জনগণমন- অধিনায়ক জয় হে,ভারতের জাতীয় সংগীত। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। নোবেল ফাইন্ডেশন তার এই কাব্য গ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিলেন একটি গভীর ভাবে সংবেদনশীল,উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থরুপে।

বাংলার দিকপাল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩৪৮ বঙাব্দের ২২ শ্রাবণ,১৯৪১ ইংরেজি ৭ আগষ্ট, রোজ বৃহস্পতিবারে কলকাতার জোড়াসাঁকোতেই প্রায় ৮০ বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লেখকঃ কলামিষ্ট,সাংস্কৃতিক কর্মী এবং পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.