Tuesday, August 4

আট মাস জনহীন দ্বীপে কাটিয়ে মঙ্গলযাত্রার সূচনা

0

জনহীন দ্বীপে ১২শ’ বর্গফুটের উল্টানো বাটির মতো দেখতে একটি বাড়ি। গত আট মাস সেখানেই কাটিয়েছেন চারজন পুরুষ ও দুই মহিলা গবেষক। বাড়িটিতে ছোট দু’টি ঘর, ছ’জনের ছোট-ছোট ছ’খানা ঘুমানোর জায়গা, একটি রান্নাঘর, গবেষণাগার, স্নানের ঘর ও দু’টি শৌচাগার। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের কথা মাথায় রেখে সকলেই এই পুরোটা সময় সেখানে স্পেসস্যুট পরে কাটিয়েছেন। লক্ষ্য তাদের ২০৩০ সাল।

মঙ্গল অভিযানে এই সালটির কথা আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে নাসা। তবে এবার থেকেই মঙ্গল অভিযানের বাস্তবসম্মত সব রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রটি। মূত্রের অণুগুলি ভেঙে তা থেকে খাবার তৈরি করা, টানা অনেক দিন ভারশূন্য থাকার পরীক্ষার পাশাপাশি গত ৮ মাস ধরে চলছিল ধৈর্যের এক দীর্ঘ পরীক্ষা। গত কাল শেষ হয়েছে তা।

জানা গেছে, নাসা ও হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পে মনোসমীক্ষার এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন জোশুয়া এহরিল্চ, লরা লার্ক, স্যামুয়েল পেলার, ব্রায়ান র‌্যামোস, জেমস বেভিংটন ও অ্যানসলে বার্নার্ড। গত জানুয়ারিতে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনা লোয়া নামে এক জনশূন্য দ্বীপে ঠাঁই নিয়েছিলেন নাসার ছ’জনের এই দলটি। দ্বীপটি আসলে পৃথিবীর সব চেয়ে বড় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যদিও আপাতত ঘুমিয়ে রয়েছে। টানা আট মাস সেখানে কাটিয়ে রবিবার লোকসমাজে, চেনা পরিবেশে ফিরে এসেছেন তারা।

লালগ্রহে বেঁচে থাকার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো অন্নসংস্থান। হাওয়াই পরীক্ষায় সে কাজটি করেছেন দলের জীববিজ্ঞানী জোশুয়া এহরিল্চ। ফলিয়েছেন গাজর, গোলমরিচ, বাঁধাকপি, সর্ষে, টোম্যাটো, আলু, পার্সলে। মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে কোনো সিগন্যাল পৌঁছায় ২০ মিনিটে। মৌনা লোয়া দ্বীপেও ছিল সেই ব্যবস্থা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.