Tuesday, September 15

আদালতের নির্দেশে অভিভাবকত্ব পেলেন বাঁধন

0

আইনি লড়াই শেষে একমাত্র মেয়ে মিশেল আমানি সায়রার অভিভাবকত্ব পেলেন লাক্স তারকা ও ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আজ সোমবার (৩০ এপ্রিল) দ্বাদশ সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালত (ঢাকা) যে আদেশ আমার মামলায় দিলেন, তা একটি যুগান্তকারী রায় এবং আদালতপাড়ায় মাইলফলক।’

সোমবার ঢাকার ১২তম সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান মেয়েকে বাঁধনের অভিভাবকত্বে দেয়ার আদেশ দেন।

বাঁধনের আইনজীবী দিলরুবা শারমিন বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, এই আদেশ উপমহাদেশে বিরল উদাহরণ।’আদেশ অনুযায়ী কন্যাশিশু সায়রার অভিভাবক হচ্ছেন মা আজমেরী হক বাঁধন। এখন থেকে মায়ের জিম্মাতেই থাকবে মেয়ে। বাবা মাসে কেবল দুই দিন মায়ের বাড়িতে গিয়ে মায়ের উপস্থিতিতে মেয়েকে দেখে আসতে পাড়বেন। কিন্তু কন্যার মঙ্গলের জন্য মায়ের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। এমনটাই জানালেন বাঁধন।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বাবা তার কন্যা সন্তানের পাসপোর্ট আটকে রেখেছেন। আদালত সেটা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদি বাবা না দেন, তবে বাদীকে থানায় জিডি করতে বলেছেন এবং নতুন পাসপোর্ট দেবার জন্য পাসপোর্ট অফিসে বিজ্ঞ আদালত চিঠি ও আদেশ পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানালেন। কন্যাশিশুকে নিয়ে মা দেশের ভেতরে এবং বাইরে যেতে পারবেন যেহেতু মা-ই শিশুর অভিভাভবক।’

বাঁধন বলেন, ‘একটি বিশেষ দিক না উল্লেখ করলেই নয়; সামান্য যে ৫ লাখ টাকার দেনমোহর, তার কোনো দাবি আমি করিনি। কন্যার ভরণ-পোষণ বাবা এতদিন করেননি, কোনো খোরপোষ দেননি, আমি চাইওনি এবং সেটা প্রকাশ্য আদালতেই আজকে বলেছি। বাবার কাছে ভরণপোষণ, প্রতিটা মেয়ের অধিকার। মেয়ের দেখভাল করা প্রতিটি বাবারই দায়িত্ব। সেই কাজটা এতদিন আমিই করে এসেছি। তিনি করবেন কিনা, সেটা তারই বিবেচনায় থাক।’

সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘আমার জীবনের এই অংশটায় যারা যারা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। আপনাদের নাম নিতে চাই না, শুধু অনুরোধ করবো, মেয়েকে যেন এইভাবেই, আমার নিজের সামর্থ্যে, মানুষ হিসেবে বড় করতে পারি, সেই দোয়া করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সততাই যে সর্বোত্তম পন্থা সেটা আবারও প্রমাণ হলো। নিশ্চিত ছিলাম, সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে আইনের সুশাসন যে এই দেশে এখনও আছে, সেটা প্রমাণ পাওয়া যায়।’

২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর বিয়ে বিচ্ছেদ হয় অভিনেত্রী বাঁধন ও ব্যবসায়ী মাশরুর সিদ্দিকী দম্পতির। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান সায়রা। এর আগে ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মাশরুর সিদ্দিকী ও বাঁধন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.