বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।
যেসব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে, তা হলো- হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে এবং পরে অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম আসবে, তাদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে; আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বুয়েট প্রশাসন বহন করবে ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বুয়েট প্রশাসন বাধ্য থাকবে; বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ; বুয়েটে র্যাগের নামে নির্যাতনের ঘটনা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশের জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব হলের দুই পাশে প্রতি ফ্লোরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আগামী রবি ও সোমবার পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ১৪ অক্টোবর নির্ধারিত তারিখে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়- ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগামী রবি ও সোমবার শিথিল থাকবে। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন তারা ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতা করবেন। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের প্রতিও তাদের আস্থা থাকবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাশে ছিলেন।
প্রসঙ্গত ভারতকে গ্যাস, পানি ও সমুদ্রবন্দর দেয়ার বিরোধিতা করে ৫ অক্টোর বিকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।