কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ।
এই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ‘নো অর্ডার’ দেন। এতে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল মো. মমতাজ উদ্দিন ফকির, মুরাদ রেজা। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও ড. বশির উল্লাহ।
অন্যদিকে, আদালতে আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ ছাড়া আদালতে ছিলেন অ্যাডভেকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং তাদের সঙ্গে ছিলেন কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন। তবে আরও কয়েকটি মামলায় জামিন না পাওয়ায় এখনই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
দেশজুড়ে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে আট যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। ওই ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে হত্যার অভিযোগে ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করে পুলিশ। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রূপান্তর করা হয়।
এই মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৬ আগস্ট তাকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার ‘নো অর্ডার’ দেন আপিল বিভাগ। এতে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন বহাল রইল।