সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে, সকালেও বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ফলে, চট্টগ্রামের আকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আফগান খেলোয়াড় আর কর্মকর্তাদের মুখও গোমড়া হচ্ছে আস্তে আস্তে। বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরতরা মাঠ পরিষ্কার করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই খেলা শুরু করার ঘোষণাও দেয়া হয়। ঐতিহাসিক জয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা আফগানিস্তান অধিনায়ক দল নিয়ে মাঠে নামেন। ব্যাট হাতে ক্রিজে পৌঁছান সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার। সোমবার দুপুরে ঠিক ১টায় মাঠে নামে দুই দল। তবে মাত্র ১৩ বল হতেই আবার বৃষ্টি। মাঠ ছাড়তে হলো সবাইকেই।
এদিন খেলা মাত্র সাত মিনিটে গড়ায় অর্থাৎ ১টা ৭ মিনিটের মাথায় শুরু হয় বৃষ্টি। চতুর্থ দিনে ৩৯ রান করা সাকিব আরও ৫ রান যোগ করেন এদিন। অন্যদিকে দুটি সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খোলেন সৌম্য।
আফগানদের ম্যাচটি জিততে প্রয়োজন মাত্র ৪টি উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার আরও ২৫৫ রান।
৪৬.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১৪৩ রান। লক্ষ্য ৩৯৮ রান।
বিশাল টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে গতকাল রোববার ৬ উইকেটে ১৩৬ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ৪টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ না হলে হয়তো কালই পরাজয় দেখতে হতো সাকিবদের। সাকিব ৩৯* আর সৌম্য ০* রানে অপরাজিত আছেন।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস সূচনা করেন লিটন দাস আর সাদমান ইসলাম। শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও ৩০ রানের জুটি জহির খানের বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন লিটন দাস (৯)। আগের বলেই তিনি রিভিউ নিয়ে জীবন পেয়েছিলেন। তিনে নামা মোসাদ্দেক হোসেন ১২ রান করে সেই জহির খানের বলেই আত্মঘাতী শটে আউট হন। মুশফিকুর রহিম আজ ‘ডিপেন্ডেবল’ হয়ে উঠতে পারেননি। রশিদ খানের বলে ২৩ রানে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন। রিভিউ নিয়েও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানো যায়নি।
মুমিনুল হক ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ খ্যাতি পেলেও রশিদ খানের ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে এলবিডাব্লিউ হন ৩ রান করে। সাদমানের সঙ্গে সাকিব যোগ দিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জুটিতে ২৪ রান আসতেই মোহাম্মদ নবির বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান ১১৪ বলে ৪১ করা সাদমান। ১১ রানে রশিদের সৌজন্যে একবার জীবনও পান সাকিব। টানা ব্যর্থ হওয়া মাহমুদউল্লাহ ৭ রান করে রশিদ খানের শিকার হন। শর্টে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন ইব্রাহিম জারদান।
১৩৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামা আফগানিস্তান ২৬০ রানে অল-আউট হয়। এর আগে আফগানদের ৩৪২ রানের জবাবে ২০৫ রানেই অল-আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। তাছাড়া চট্টগ্রামে বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে কখনোই রান তাড়া করে জিততে পারেনি।