লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার দুপুর ১২ টা থেকে তিস্তা নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে বাঁধ ও সড়কের ভাঙ্গা অংশ গুলো দিয়ে তিস্তার পানি সতী নদী হয়ে শহরে প্রবেশ করছে। গত শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে পানির চাপে হাতীবান্ধাহাট থেকে বড়খাতা বিডিআর গেট বাইপাস সড়ক ভেঙ্গে তিস্তা নদীর পানি হাতীবান্ধা শহরসহ লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে বাঁধ ও সড়ক ভেঙ্গে জেলার ৫ উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাতীবান্ধা উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন। শনিবার বিকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি কমতে থাকে।
সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে পানি বিপদসীমার ৪৫ সেঃ মিঃ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সোমবার দুপুর থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। সন্ধ্যা ৬ টায় তিস্তা পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ছুঁই ছুঁই দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা যাচ্ছে না। পানির শো শো শব্দে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তিস্তা নদীর ভয়ঙ্কর রুপ আর গর্জনে পানি বন্দি লোকজনের চোখে ঘুম নেই।
তিস্তা ব্যরাজ দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা যাচ্ছে না। পানির গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ গেটই খুলে দেয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, আমি বন্যা এলাকা সড়ে জমিন ঘুরে দেখছি। যেখানে যেভাবে প্রয়োজন সেই ভাবেই সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।