অষ্টম দিনের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশনে রয়েছেন শিক্ষকরা। অনশনে এ পর্যন্ত ১৮৬ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩০ জন।
মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৯ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী।
তীব্র শীতে অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন অনশনকারী শিক্ষকরা।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২৫ বছর ধরে চাকরি করছি। কিন্তু বেতন হিসেবে একটি টাকাও পাইনি। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী আর বাবা-মাকে নিয়ে কীভাবে চলে সংসারটা? সরকার তো আমাদের নিয়ে তামাশা করছে। শিক্ষকরা জাতির দর্পণ। অথচ শিক্ষকরাই যদি না খেয়ে মারা যায়, তা হলে সেই শিক্ষক হয়ে আমি জীবনে বড় ভুল করেছি।
ইউনুস আলী নামে আরেক শিক্ষক জানান, ২০০২ সাল থেকে চাকরি করছেন। কিন্তু কোনো বেতন পান না। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীসহ সংসারে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। কীভাবে সংসার চলছে তা শুধু তিনিই ভালো জানেন।
জামালপুরের একটি মাদ্রাসায় ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করেন আসমা খাতুন। তিনি বলেন, শিক্ষকতার দীর্ঘ বছরেও সরকার তাকে কোনো টাকা দেয়নি। ভেবেছিলেন একদিন প্রতিষ্ঠান সরকারি হবে আর তার দুঃখটাও ঘুচে যাবে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, সারা দেশে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৮ হাজার ১৯৪টি। এর মধ্যে চালু আছে ১০ হাজারের মতো। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন প্রায় ৫০ হাজার। সরকারকে সবার দায়িত্ব নিতে হবে।