গত ২৯ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধের পাশাপাশি রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে পথচারীদের আরও সচেতন হতে হবে। যে কোনোভাবেই হোক, আমাদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। কিন্তু পাশাপাশি নিয়ম ভেঙে যাতে কেউ সড়ক পারাপার না হয়, সে ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে। তোমরা কেউ মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হবে না।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। আন্ডারপাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেখানে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়াও ক্যান্টমেন্টের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সরকারের ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, পাশে ফুটওভারব্রিজ আছে অথচ কেউ তা দিয়ে সড়ক পার হয় না। কষ্ট করে নিচ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়। এখানে ৩৪টি ফুটওভারব্রিজ আছে, এর চারটিও ব্যবহার হয় না। ‘দুর্ঘটনা ঘটলে দাবি ওঠে, আমরা তা বাস্তবায়ন করি। কিন্তু আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তোমরা সড়ক পারাপারের সময় সতর্ক থাকবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, তোমরা এমন একজন অভিভাবক পেয়েছ, যার কথায় তোমরা আন্দোলন থেকে ঘরে ফিরে গেছ। তোমাদের ৯টি দাবি সরকার পূরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে। আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেই নির্দেশ পালন করছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্ধকার দিয়ে কখনও অন্ধকার দূর করা যায় না। আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করতে হয়। হিংসা দিয়ে কখনও হিংসা দূর করা যায় না, ভালোবাসা দিয়ে হিংসাকে জয় করতে হয়।
গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।