প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলো বলেই তারা বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। নৌকা যখন ক্ষমতায় আসে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।’
তিনি আজ নির্বাচনী সফরে রংপুরের তারাগঞ্জের জনসভায় এ সব কথা বলেন। এসময় শেখ হাসিনা নৌকায় ভোট দিয়ে আবার দেশ সেবা করার সুযোগ চাইলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ঘুরেছি। আমি দেখেছি এদেশের দরিদ্র মানুষ। তাদের পেটে ছিল ক্ষুধার জ্বালা। এসব এলাকা ছিল মঙ্গা। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার গঠন করেছে। এরপর থেকে আল্লাহর রহমতে আর মঙ্গা হয়নি। খাবারের কোন কষ্ট হয়নি। ফসল উৎপাদন হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সবার ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। প্রতিটি মানুষ চিকিৎসা পাবে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। বই আপনাদের কিনতে হয় না, বই কিনে দি আমি। প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি, উপবৃত্তি দিচ্ছি। প্রাইমারিতে বৃত্তির টাকা মায়ের নামে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা দিয়ে দিচ্ছি। বয়স্ক ভাতা দিচ্ছি, বিধবা ভাতা দিচ্ছি। স্বামী পরিতক্তা ভাতাও দিচ্ছি। যাতে আমাদের কোন মা বোন সমস্যায় পড়লে তাদের কষ্ট করতে না হয় সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
তিনি নৌকায় ভোট চেয়ে বলেন, ‘আমরা চাই আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনুন। নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’
এর আগে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে সড়ক পথে তারাগঞ্জে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এসময় সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে তারাগঞ্জে জনসভার পর সড়ক পথে তার শ্বশুরবাড়ি পীরগঞ্জে পৌঁছে দুপুর আড়াইটার দিকে ওই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।