বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ হিসেবে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ রোববার থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
আজ রোববার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি পূর্ব দধাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি রোববার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ সিলেট ও ময়মনসিংহ এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি স্থানে কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বেশ কয়েকটি স্থানে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।
গতকাল শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।