এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল আসাম। তার আগেই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৫১ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই বিপুল সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে মোদি সরকার।
গুয়াহাটিসহ রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার আসামের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা কুলধর শইকিয়া জানিয়েছেন, রাজ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৫১ কোম্পানি সিএপিএফ পাঠিয়েছে কেন্দ্র। আগে থেকেই রাজ্যে ১৬৭ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা রয়েছে।
এমন টানটান উত্তেজনাময় পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার সকাল ১০টার দিকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে তালিকা থেকে ৪০ লাখের বেশি আবেদনকারীর নাম বাদ পড়তে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করছে ভারতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
তালিকা থেকে বাদ পড়ে রাজ্যের লাখো লাখো বাসিন্দা বিশেষ করে মুলসমানদের নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় রাজ্যের মোট তিন কোটি ৩০ লাখ বাসিন্দা তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৪০ লাখ বাঙালি এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। যাদের অধিকাংশই মুসলিম।
এমন খবরে রাজ্যে মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে শংকা বিরাজ করছে।
কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য রাজ্যের মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে আসাম পুলিশ।
রাজ্যজুড়ে থাকা প্রায় ২৫০০ এনআরসি সেবা কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ২শ কেন্দ্রকে উত্তেজনাপ্রবণ বলে চিহ্নিত করেছে তারা। সেসব স্থানেই বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার ৬০ হাজার রাজ্য পুলিশ ও ১৯ হাজার আধাসামরিক বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্ত এলাকা আসামে ১০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আসামে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক আছেন কিন সে প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের দাবি, আসামে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নেই।
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রথম খসড়া প্রকাশ করা হয়। সেখানে মাত্র এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের ঠাঁই হয়। অথচ আবেদন করেছিল তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভ শুরু হলে ওই বছর জুলাই মাসে সংশোধিত খসড়া নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ পায়। নতুন তালিকায় দুই কোটি ৮৯ লাখ মানুষের নাম ঠাঁই পেলেও বাদ পড়েন উত্তর-পূর্ব আসামের প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসামের পর পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তবর্তী অন্যান্য রাজ্যের ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ চিহ্নিত করতে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন বলে জানায় রয়টার্স।