ইটালির জেনোয়া শহরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ওপর একটি সেতু ধসে পড়ার পর অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।সেতুটি ধসে পড়ার পর এটির ওপর থাকা কোন কোন গাড়ি প্রায় তিনশো ফুট নীচে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। এ ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চালাচ্ছেন জরুরিকর্মীরা। গুরুতর আহত হয়েছেন ১৫ জন। খবর বিবিসির।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী পিয়েট্রো এম আলআসা জানান, “তীব্র বজ্রপাত হচ্ছিল, তখন আমরা ব্রিজটি ধসে যেতে দেখি।”সেতুটির ওপর তখন গাড়ির দীর্ঘ লাইন ছিল। অনেক ট্রাক এবং কার সেতুটির ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়ে। সেতুর নিকটবর্তী অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
১৯৬০ সালে নির্মিত এই সেতুটির নাম মোরান্ডি ব্রিজ। সেতুটি ২০১৬ সাল থেকে পুনর্নির্মাণের কাজ চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সেতুটি ধসে পড়ার কারণে সেখানকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর এ দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন ইতালির যোগাযোগমন্ত্রী দানিলো তোনিনেল্লি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছে। ফায়ার ব্রিগেড জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেতুটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।
ভারী বর্ষণের মধ্যে ব্রিজটি ধসে পড়লেও ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। তবে মোরান্দি ব্রিজটির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।
একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনীয়ার ইয়ান ফার্থ বিবিসিকে জানান, মোরান্ডি সেতুর ডিজাইন ছিল খুব অভিনব। কেন এটি ধসে পড়লো তা বলা কঠিন। তবে যেহেতু রি-ইনফোর্সড কংক্রীটের ব্রিজটি ৫০ বছরের বেশি পুরনো তাই এমন হতে পারে যে এর ভেতরের কিছু জিনিস ক্ষয়ে গিয়েছিল।”
ইটালির পরিবহন মন্ত্রী এই ঘটনাকে এক ‘বিরাট ট্রাজেডি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে একজন ইটালিয়ান সাংবাদিক ম্যাটিও পুচারেল্লি জানান, তিনি সেখানে সেতুর নীচে প্রায় বিশ-তিরিশটি গাড়ি দেখতে পাচ্ছেন। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা নদীতেও অনেক মানুষকে খুঁজে পাচ্ছে।
ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্র এই দুর্ঘটনায় ইটালিকে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইটালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ম্যাটিও স্যালভিনি বলেছেন,এই সেতু দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে ইটালিকে তার ব্যয় সংকোচনের চেয়ে বরং অবকাঠাামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।