Wednesday, September 23

ইন্দোনেশিয়ায় আজান ছাড়া মসজিদের মাইকে শব্দ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

0

আজান ছাড়া মসজিদের মাইকে অন্য কোনও শব্দ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়াতে। এ নিয়ে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে দেশটির মসজিদগুলোতে কীভাবে আজান দেয়া হবে, সে সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। খবর দ্য স্টার।

প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, বিশেষ করে মানুষ যখন ঘুমায়, বিশ্রাম নেয় অথবা নামাজ পড়ে তখন মসজিদের মাইকে কোনও শব্দ প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে নামাজের সময় মাইকের শব্দ না বাড়ানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

ছয় দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, মসজিদের মাইক অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালনা করতে হবে, যাতে করে আজানের শব্দ মানুষের মনে মসজিদের প্রতি সম্ভাব্য বিদ্বেষ তৈরি না করে। যারা আজান দেবেন তাদের অবশ্যই সুমধুর ও ভালো কণ্ঠের অধিকারী হতে হবে। নামাজের সময় শব্দের মাত্রা বাড়ানো যাবে না। মানুষ যখন ঘুম, বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করছে তখন আজান ছাড়া কোনও ধরনের শব্দ প্রচার করা যাবে না। আজান হতে হবে সুমধুর ও কানের জন্য শ্রুতিমধুর।

সম্প্রতি চীনা বংশোদ্ভূত খ্রিস্টান নারী মেইলিয়ানাকে আজানের উচ্চস্বর নিয়ে আপত্তি জানানোর কারণে তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়া। যার কারণে দেশটির আদালতের এমন রায়ের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি আদালতের এ রায়কে হাস্যকর আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির উদ্যোগে ইন্টারনেটে একটি আবেদনপত্র প্রকাশিত হয়েছে অভিযুক্ত নারীর মুক্তির দাবিতে। সেখানে গত শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে মাইকের আজানের উচ্চস্বর নিয়ে আপত্তি জানানো ধর্ম অবমাননার আওতায় পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় সংগঠন নাহদাতুল উলামা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আজানের উচ্চস্বর নিয়ে আপত্তিকে গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবেই দেখা উচিত।
প্রায় চার কোটি সদস্যের সংগঠন নাহদাতুল উলামার আইন বিভাগের প্রধান রবিকিন এমহাস বলেছেন- ‘মাইকে দেয়া আজানের শব্দ অনেক বেশি, এমনটা বললে তাকে ধর্ম অবমাননা হিসেবে গণ্য করা যায় না। বরং ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি মুসলিম সমাজে এমন অভিযোগকে মুসলমানদের গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবেই দেখা উচিত।’
সবশেষ সমালোচনা থেকে রেহাই পেতেই ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় এসব নির্দেশনা জারি করলো।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.