জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুর দেওয়ানগঞ্জ সীমানা যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হতে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত ৪কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ নির্মান হওয়া সুবিধা পাচ্ছে লাখো মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদনদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে যমুনা চরাঞ্চলের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলী জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করলেও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধটিঁ হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রামে পানি প্রবাহিত করতে না পারায় শান্তির নিঃশ্বাস ফেলেই রয়েছে গেল বন্যায় আক্রান্ত মানুষ গুলো।
এই বাদঁ নির্মানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে না পেরে উপজেলার সদর ইউনিয়ন নোয়ারপাড়া, চিনাডুলী, বেলগাছা ও কুলকান্দি সহ ইসলামপুরবাসী আবাদী জমিগুলো ফসল শান্তি মনেই ঘরে নিতে পারবে বলে আশা রাখছে। অন্যদিকে বাড়িঘরে পানি উঠতে না পারায় এলাকাবাসী বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতঞ্জতা প্রকাশ করেছে।
জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে দীর্ঘদিন পানিবন্দি থেকে জীবনধারণ করতে হতো। বর্ষা মৌসুমে ওই লক্ষাধিক মানুষকে বন্যার পানিবন্দি দশা থেকে বাঁচানোর বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এলাকাবাসী জানায়, যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হতে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁটি হওয়ায় এবারের বন্যায় অধ্যবদি পর্যন্ত যমুনা নদী থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবাহিত হতে পারেনি। এতে করে পশ্চিম ইসলামপুর প্রায় ৪০টি গ্রাম সহ জামালপুরবাসী উপকৃত হচ্ছে।
অকাল বন্যার পানি থেকে বাঁচার রক্ষা কবজ হরিণধার বাঁধটি ভাঙনে বিলিন হয়েছে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা নদী থেকে বাঁধাহীন ভাবে নেমে আসা পানির নিচে অকাল বন্যায় তলিয়ে যেত উপজেলার সদর ইউনিয়ন, পাথর্শী, কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুুলি ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন সমুহের নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
আবার যমুনা নদীতে বন্যার পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করতেই ওই ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তো। ওই সময় পানিবন্দিদের ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকরা খাদ্যের তীব্র সঙ্কটসহ গো-খাদ্যেরও অভাব সহ ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত নানা রোগের পাদুর্ভাব ও পানিবন্দি অনেকই আতঙ্ক বিরাজ করাসহ শিশুদের ডুবে মরার ঘটনা ঘটে। বন্যার পানির সাথে নদীর বালি উঠে এসে প্রতিতবছরই যমুনা তীরবর্তী এলাকার শতশত একর ফসলি জমি বালি পড়ে অনাবাদী হয়ে যায়।
প্রতিবছরই যমুনা তীরবর্তী ৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ পাকা ও কাঁচা সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যায় অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট, লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে বাড়িঘর। মেরামত করতে না করতেই আবারও বন্যা এসে পূর্বের অবস্থা দেখা দেয়। এতে যমুনা তীরের মানুষগুলোর দুর্ভোগ যেন লেগেই থাকতো।
ইসলামপুর বাসীর দূভোর্গ লাঘবে স্থানীয় এমপি’র ঐক্লান্তিক প্রচেষ্ঠায় যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হতে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধেঁর কাজ চলমান রয়েছে। মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে হয়ে ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ বসানো হচ্ছে। কোন প্রকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুদান ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধ ও বিশেষ বরাদ্ধের মাধ্যমেই ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রন বাধেঁর কাজ এক তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হয়েছে।
মোরাদাবাদ ঘাট মালিক আনোয়ার জানান, এই বাধঁ নিমার্নে পশ্চিম ইসলামপুরে প্রায় ৪০টি গ্রাম সহ জামালপুর বাসী উপকার পাইতাছে। ওই এলাকার জাফর আলী জানান, গেল বন্যায় আমার বাড়ি -যমুনা ভাসাইয়া নিয়া গেছে,এবার বাধঁটি হওয়ায় বন্যা আসলেও এখন শান্তিতেই আছি।
পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল জানান,বন্যা মৌসুমের পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষার পেতে পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি জরুরী ছিল। জনস্বার্থে স্থানীয় এমপি ঐক্লন্তিক প্রচেষ্ঠায় বিভিন্ন বরাদ্ধের মাধ্যমে এই বাধঁটির কাজ চলমান রয়েছে। এমপি মহোদয় জনস্বার্থে বরাদ্ধ দিলেও আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন বরাদ্ধ দিয়ে এই বাধেঁর কাজ চলছে।
কুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট জানান, গেল বন্যায় এই সময় মানুষের ঘরে ঘরে পানি ডুকে পড়তো। এই বাধঁটি হওয়ায় এবার পানি ভেদ করতে না পারায় মানুষের দূর্দশা লাঘব হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, দেওয়ানগঞ্জ সীমানা হতে যমুনার তীরবর্তী মোরাদাবাদ ঘাট হয়ে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত ৪কিঃিমিঃ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁটি ইসলামপুরবাসীর জন্য জরুরী ছিল।এই বাধঁ নির্মানে ৫২৮মেঃটন চাল বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছিল। এতে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। তবে যতটুকু বরাদ্ধ রয়েছে তা বাধেঁর জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তারমধ্যই কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও জনস্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক বরাদ্ধ থেকেও বরাদ্ধ দিয়ে এই কাজটি করা হচ্ছে। প্রতিদিন তদারকি করছি,পানি দ্রæত বৃদ্ধি পেলেও বাধঁ হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামগুলো মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল জানান,বন্যা মৌসুমে ইসলামপুর উপজেলাবাসীকে পানিবন্দি দশা থেকে রক্ষার জন্য যমুনার পূর্বতীরে একটি উঁচু ও প্রশস্থ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছিল। তাই জনস্বার্থে পাথর্শী ও কুলকান্দি চেয়ারম্যা কে দায়িত্ব দিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় নির্মান কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সরকারী অর্থ বরাদ্ধ পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের কাঠমা পর্যন্ত ২০কিলোমিটার এলাকায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে।