শেষ হাসিটা হাসল বাংলাদেশ। কি দুর্দান্ত এক ম্যাচ উপহার দিলো সাকিবরা। এই জয়ের কোনও বিশেষণ নেই। টনটনে আজ বাঁচা-মরার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চমে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এর আগে টাইগার বাহিনীর এক জয়, দুই হার আর অপর ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। তাই চার ম্যাচে টাইগারদের সংগ্রহ ছিলো মাত্র ৩ পয়েন্ট। তখন ছিলো পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজকের জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাড়িয়েছে ৫ পয়েন্টে।
উইন্ডিজদের দেয়া ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে বাংলাদেশের লেগেছে মাত্র ৪১.৩ ওভার।
সমারসেটের টনটনে টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বোলিংয়ের। ক্যারিবীয়দের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরু থেকেই চেপে ধরে মাশরাফি-সাইফউদ্দিন। ইংনিসের চতুর্থ ওভারেই গেইলকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন।
এরপর শাই হোপ-এভিন লুইসের ১১৬ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লুইসকে ৭০ রানে ফিরিয়ে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। এরপর নিকোলাস পুরানের ২৫ রানে ফেরার পর হোপ আর শিমরন হেটমেয়ার মিলে জুটি গড়েন ৮৩ রানের। হেটমেয়ারকে ৫০ রানে ফেরান মোস্তাফিজ। একই ওভারে আন্দ্রে রাসেলকেও শূন্য রানে ফেরান কাটার মাস্টার।
শত রানের ইনিংস খেলার পথে থাকা হোপকে আশাহত করেন মোস্তাফিজ। ৯৬ রানের মাথায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হোপ। শেষদিকে জেসন হোল্ডারের ১৫ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ক্যারিবীয়রা।
৯ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া সাইফউদ্দিনও নেন৩টি আর সাকিব নেন ২টি উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে তামিম-সৌম্যর উদ্বোধনী জুটি যোগ করে ৫২ রান। সৌম্য ২৯ করে বিদায়ের পর সাকিবকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তামিম। তবে কাঁটা পড়েন অর্ধশতক থেকে দুই রান দূরে থাকতে। ৪৮ রানে শেলডন কটরেলের রান-আউটের ফাঁদে পড়ে ফিরেন সাজঘরে।
মুশফিক এলেন আর গেলেন ১ রান করে। বাকিটা ইতিহাস। সাকিব-লিটনের কাছে অসহায় ক্যারিবীয় গতি দানবরা। দুইজনের জুটি থেকে আসে ১৮৯ রান।
বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর যেন সাকিব আল হাসানের। টনটনে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে পেলেন বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শতক। ৮৩ বলে ১৩ চারের সাহায্যে সাকিব তুলে নিয়েছেন আসরের দ্বিতীয় শতক। এর আগে গত ২০১৫ বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি হাঁকান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।