যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়ার সফরের অংশ হিসেবে জাপানে পৌঁছেই উত্তর কোরিয়াকে ফের সমূলে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ।
১২ দিনের দীর্ঘ এ সফরে রোববার প্রথমে জাপান পৌঁছানোর পরপরই এমন হুঙ্কার দেন তিনি। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথম ভাষণেও একই হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো স্বৈরশাসকেরই’ যুক্তরাষ্ট্রকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এর মধ্য দিয়ে মূলত ট্রাম্প উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনকেই ইঙ্গিত করেছেন। ট্রাম্পের এ মন্তব্যে পাল্টা জবাব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। খবর রয়টার্স ও এএফপির।
রোববার সকালে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জাপানের রাজধানী টোকিওর পশ্চিমে ফুসা সিটির ইয়োকোতা বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান। তাদের বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান সেখানে অবতরণের পর মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুভেচ্ছা জানান।
তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো স্বৈরশাসক বা কোনো সরকারেরই যুক্তরাষ্ট্রকে হেয় করা উচিত নয়।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অতীতে তারা যতবারই আমাদেরকে হেয় করেছে, তার ফল তাদের জন্য ভালো ছিল না, ছিল কি? আমাদের জনগণ, আমাদের মুক্তি এবং আমাদের পতাকা সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা কখনই হার মানব না, কখনই থেমে যাব না, কখনই হোঁচট খাব না।’
গার্ডিয়ান জানায়, মুখে উত্তর কোরিয়ার নাম উচ্চারণ না করলেও এটি দেশটির প্রতি হুশিয়ারিরই আভাস।
এর আগে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশের তালিকায় যুক্ত করা হবে কিনা সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টির সুরাহা করতে চাই। আমাদের দেশ ও বিশ্বের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা। আমরা এর সমাধান করতে চাই।’
এশিয়া সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা করছেন বলে এ সময় জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিনের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হবে বলে আশা করছি। আমরা উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে পুতিনের সাহায্য চাই।’
এদিকে, ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির ক্ষমতাসীন পার্টির পত্রিকা রোদং সিনমুন জানায়, মার্কিনিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অভিশংসন চান। কারণ তারা জানেন যে ‘অস্থির মনা’ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরমাণু বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারেন।
পত্রিকাটি আরও জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অবিবেচক আচরণ করে এবং বেপরোয়া হামলার সাহস দেখায়, তাহলে পরবর্তী ফল হবে খুব ভয়াবহ। উত্তর কোরিয়ার সব ধরনের সামরিক শক্তি ক্ষমার অযোগ্য শাস্তি আরোপ করবে।’