Sunday, August 23

নাম মাত্র বন্দর থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম
উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি চিলমারী নৌ-বন্দর

0

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদে নৌ-বন্দর পুনঃ প্রতিষ্ঠার উদ্বোধনের আড়াই বছর গত হলেও এখনো চালু হয়নি বন্দরটি। নাম মাত্র বন্দর থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম, অদ্যবধি তেমন কোন কার্যক্রম না থাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন ।

জানা যায়, ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে চিলমারী নৌ-বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বন্দরের মাধ্যমে পণ্য সামগ্রী জাহাজে করে কলকাতা থেকে গোহাটি হয়ে আসামের ধুপড়ী পর্যন্ত পরিবহন করত। উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার কারণে বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী চিলমারীতে ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণ,খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম চিলমারী বন্দর পুনঃপ্রতিষ্ঠানের দাবী জানালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারী নৌ-বন্দর পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন। ওই সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান উপজেলার রমনা নৌ-ঘাটে নৌ-বন্দরের উদ্বোধন করেন। বন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জেলা পরিষদ পূর্ব থেকে জেলার সকল নৌ-ঘাট ইজারা দেয়াসহ পরিচালনা করে আসত। জেলা পরিষদ নদী-বন্দর ঘোষিত এলাকায় তাদের পল্টুন স্থাপন করে ইজারাদার ঘাটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একই স্থানে নৌ-বন্দর ও জেলা পরিষদের নৌ-ঘাটের কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ায় জেলা পরিষদ ও নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র মধ্যে দ্ব›েদ্বর সৃষ্টি হয়ে মামলা পর্যন্ত গড়ায়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান আবারো ২০১৮ সালে ০৯জুন চিলমারী সফরে এসে নদী বন্দর পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তার বক্তব্যে বলেন, চিলমারী নৌ-বন্দর প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের সমস্যা সমাধান করে অতি শীঘ্রই বন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর পরেই বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষায় বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলেও বন্দর প্রতিষ্ঠার তেমন কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো শামসুজ্জোহা বলেন, এ বছর বন্যায় চিলমারী উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের বড় অভাব। চিলমারী নদীবন্দর চালু হলে এখানের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জরুরী ভিত্তিত্বে বন্দরটি চালুর করার ব্যাপারে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, চিলমারী নদী বন্দর চালু হলে এখানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। চিলমারীর মানুষের বেকারত্ব দূর হবে। তিনি বন্দরের কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, বিআইডাব্লিউটিএ‘র পরিচালক (বন্দর) শফিকুল ইসলাম জানান, ডিপিপি প্রধানমন্ত্রীর নিকট জমা দেয়া আছে একনেকে অনুমোদন হলে বন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.