কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে আখক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। গৃহবধূকে হত্যার উদ্যোশে নির্জন আখ ক্ষেতে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি আঘাত করে দূর্বত্তরা। পরে গুরুতর আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে উলিপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে উলিপুর থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন আঞ্জুয়ারা বেগম (২৫), মাহফুজার রহমান মুরাদ (২০), রাসেল মিয়া (১৯) ও আঙ্গুর মিয়া (১৮) । আকটকৃতদের গতকাল সোমবার (৬এপ্রিল) কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ আলীর পূত্র নাজমুল হকের সাথে পাশর্^বর্তী বজরা ইউনিয়নের কালপানিবজরা গ্রামের আব্দুল গনি মিয়ার কন্যা শাপলা বেগমের (১৯) সাথে চারমাস আগে বিয়ে হয়। শনিবার (৪এপ্রিল) সকালে শাপলা বেগম পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৫ এপ্রিল শাপলা বেগম তার ননদ একই উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকায় বেড়াতে যায়। সেখানে সুরীরডারার পাড় এলাকার আঞ্জুয়ারা বেগম ও তার স্বামী মাহফুজার রহমান মোবাইলে একাধিকবার গৃহবধূ শাপলা বেগমকে কল করে। শাপলা বেগম সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে গেলে আঞ্জুয়ারা বেগম তার স্বামী মাহফুজার রহমানের সাথে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে শাপলা বেগমকে জোড় করে নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গীরাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। পরে সে নেতিয়ে পরলে দুবৃত্তরা ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত গৃহবধূটিকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসে এবং তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ ঘটনায় শাপলা বেগমের মা রাহেনা বেগম ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পরপরই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাহফুজার রহমানের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম, আমজাদ হোসেনের পূত্র রাসেল মিয়া, নুর ইসলামের পূত্র আঙ্গুর মিয়া ও রবিউল ইসলামের পূত্র মাহফুজার মুরাদকে আটক করে।
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: সফিকুল ইসলাম জানান, শাপলা বেগমের শরীরের বিভিন্নস্থানে গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।