বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার এবং আম্পায়ারদের সংগঠন মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞার পরপর সাকিব এমন সিদ্ধান্ত নিলেন।
আইসিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)।
২০১৭ সালের অক্টোবরে এমসিসি ক্রিকেট কমিটিতে যোগ দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সিডনি এবং বেঙ্গালুরুতে হওয়া কমিটির সভায়ও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই কমিটিতে মূলত বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার এবং আম্পায়াররা থাকেন। বছরে দুইবার করে এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়।
২০১৭ সালে সাকিবের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করে ভারতীয় জুয়াড়ি দীপক আগারওয়াল। সেবার সাকিবের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধও করেন তিনি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে আরও কিছু ক্রিকেটারের ফোন নম্বর জানতে চান ওই জুয়াড়ি।
এরপর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় ফের সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আগারওয়াল।
২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য সাকিবকে অভিনন্দন জানান আগারওয়াল।
এরপর আরেকটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সাকিবকে প্রশ্ন করে আগরওয়াল বলেন, ‘আমরা কি কাজ করছি? নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?’
আরও একটি বার্তা পাঠান আগারওয়াল। তিনি সাকিবকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘ভাই, এই সিরিজে কোনো কিছু আছে?’
প্রসঙ্গত, জুয়াড়িদের কাছ থেকে তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) না জানানোর অপরাধে সাকিবকে ২ বছর নিষিদ্ধ করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
কিন্তু ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় সাকিবের ওপর সন্তুষ্ট আইসিসি। নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় আইসিসির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার শর্তে সাকিবের শাস্তি এক বছর স্থগিত করেছে আইসিসি।