কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম অবশেষে ত্যাগ করলেন ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট ত্যাগ করার ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে গত শনিবার অনুষ্ঠিত দলের এক সভায় সকল পর্যায়ের নেতারা ফ্রন্ট ছাড়ার জন্য মত দেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জনগণের সকল সমস্যায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করছে।’
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যকারিতা এবং তৎপরতা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা। ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে একাদশ নির্বাচনের ফল বর্জন করা ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল সংসদে না যাওয়ার। কিন্তু শরিকদের না জানিয়ে প্রথমে গণফোরাম ও পরে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়ে নেয়। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি ও শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও প্রধান দল বিএনপির কাছ থেকে ‘প্রত্যাশামাফিক’ উত্তর না পাওয়ায় জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী এই ৭ মাস জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আনুষ্ঠানিকভাবে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের অফিসে একটি অসমাপ্ত বৈঠক ছাড়া কখনও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাতে মনে হয় কোনো কালে কখনও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক জোট গঠন হয়নি।’
তিনি বলেন, এমতাবস্থায় দেশের জনগণের প্রকৃত পাহারাদার হিসেবে গঠিত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বসে থাকতে পারে না। জাতীর এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণকে পাশে নিয়ে নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরুর অঙ্গীকার করছি আমরা।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৫ নভেম্বর ফ্রন্টে যোগ দিয়েছিল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।