Wednesday, September 30

কখনও এভাবে কাঁদতে দেখা যায়নি ওয়ার্নারকে

0

বল টেম্পারিং কলঙ্কে এক বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন। এ সময়ে আর্থিকভাবেও বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে তাকে। তবু চারদিক থেকে আসা দুয়োধ্বনির স্রোত থামছে না। এতসব কি মেনে নেয়া যায়!

স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না ডেভিড ওয়ার্নার। অঝোর ধারায় কাঁদলেন, কেঁদে বুক ভাসালেন, কাঁদালেন ভক্তকুলকে। ডুকরে ডুকরে কেঁদেই দ্বিতীয়বারের মতো সবার কাছে কড়জোরে ক্ষমা চাইলেন।

কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং করেন ব্যানক্রফট। ট্রাউজারের পকেট থেকে হলুদ শিরিশ কাগজ বের করে বলে ঘষেণ তিনি। সেই দায় স্বীকার করেন অজি অধিনায়ক স্মিথ। দায়টা বর্তায় সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারের কাঁধেও। সেই কলঙ্কের কালি মেখে নিজ নিজ পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন স্মিথ-ওয়ার্নার। এক বছর নিষিদ্ধও হন তারা। আর ব্যানক্রফটের নিষেধাজ্ঞা ৯ মাসের। ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশের উদ্দেশে বিমানে চড়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান ওয়ার্নার। তখনই জানান, দুয়েক দিনের মধ্যেই সব খোলাসা করবেন তিনি। করলেনও। আজ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এখানেও বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিজের অংশের দায় কাঁধে নিয়েছেন। দেশবাসী ও বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভক্ত-সমর্থকদের কাছে ফের ক্ষমা চেয়েছেন।

দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে অজি ওপেনার বলেন, খেলাটির ভক্ত-সমর্থকদের প্রতি যারা আমার দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সমর্থন ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গ বা প্রতারণা যা-ই বলুন, এজন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। এজন্য অনুতপ্ত। আশা করি, ফিরে ফের সবার মন জয় করতে পারব।

বক্তব্য দেয়াকালে এক মুহূর্তও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ওয়ার্নার। কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে প্রশ্ন-কখনও কি এভাবে কাঁদতে দেখেছেন এ মারকুটে ওপেনারকে? উত্তরটাও সোজাসাপ্টা হতে পারে- হয়তো বলবেন, না। তবে কি বল বিকৃতি কাণ্ডেই এমন বিয়োগান্তিক দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হল? শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.