জনৈক মোঃ জিয়াউল হক ভুঁঞা (৪০) পেশায় একজন ব্যবসায়ী। কোতোয়ালী থানাধীন ২৬৪ জুবিলী রোড, তিন পুলের মাথায় ‘‘মহানগর ইলেক্ট্রিক স্টোর’’ নামীয় আমার ইলেক্ট্রিক দোকান এর মালিক। আসামী বাদীর দোকান হইতে বিগত ৫/৬মাস যাবত বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক মালামাল নগদে ক্রয় করার সুবাদে কাষ্টমার হিসেবে পরিচিত। আসামী নিজেকে ‘‘স্বীকৃতি এ্যাপারেলস’’ নামীয় গার্মেন্টস এর মালিক হিসেবে পরিচয় দেয়। গত ২৫/১১/২০২১ইং তারিখ বিকাল ০৫.০০ ঘটিকার দিকে তাহার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর জন্য ইলেক্ট্রিক মালামাল প্রয়োজন বলিয়া প্রায় ১,৫৫,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার) টাকার ইলেক্ট্রিক মালামাল ক্রয় করেন। মালামাল ডেলিভারী নেওয়ার সময় নগদে ৫০০০/-(পাঁচ হাজার) টাকা পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা পরদিন দিবে বলিয়া আশ্বস্ত করেন। কয়েকদিনের মধ্যে মালামাল ক্রয় বাবদ পাওনা ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা পরিশোধ করিতে পারেননি। অতঃপর আসামী কিছু দিন পূর্বে বাদীর দোকানে গিয়া বাদীকে বলে, তাহার বর্ণিত ফ্যাক্টরীটি নতুন হওয়ায় একটু টাকা পয়সার জটিলতা সৃষ্টি হইতেছে। একপর্যায়ে বাদীকে উক্ত গার্মেন্টসে পার্টনার হওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। বাদী ট্রেড লাইসেন্স দেখে কোর্ট বিল্ডিংয়ে আসামীর সাথে একটি পার্টনারশীপ চুক্তিনামা করে। চুক্তিনামা অনুসারে আসামী বাদীর বর্ণিত দোকান হইতে ০২/০১/২০২ইং তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় নগদে ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা, গত ০৪/০১/২০২২ইং তারিখে বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় আমার দোকান হইতে নগদে ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং গত ১০/০১/২০২২ইং তারিখ বিকাল অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় আমার দোকান হইতে নগদে ৫,০০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ) টাকা সহ সর্বমোট ১৫,০০,০০০/-(পনের লক্ষ) টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে আসামীর সহিত পার্টনারশীপের বিভিন্ন বিষয় নিয়া একাধিক বার তাহার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করে। আসামী ফ্যাক্টরীর কাজে নিজেকে ব্যস্ত দেখাইয়া আজ না কাল আমার সাথে দেখা করিবে বলিয়া সময় ক্ষেপন করিতে থাকে। বাদী বিগত ৫/৬দিন পূর্বে সরেজমিনে ‘‘স্বীকৃতি এ্যাপারেলস’’ সেনোয়ারা গেষ্ট হাউজ, প্রথম তলা, ৪৮৫ ডিটি রোড, পাহাড়তলী, চট্টগ্রামে গিয়ে উক্ত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীটি সম্পূর্ন বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। আসামীর আচরণ বাদীর সন্দেহ হইলে তাহার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘‘স্বীকৃতি এ্যাপারেলস’’ নামীয় ট্রেড লাইসেন্স নং-১৮৯৪৮৭, তাং-১৫/০৭/২০১৮ইং যাচাই করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর কার্যালয়ের লাইসেন্স শাখায় গেলে উক্ত ট্রেড লাইসেন্স এবং লাইসেন্স ইস্যূকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সীল মোহর জাল বলিয়া জানায়। একপর্যায়ে আসামী বর্ণিত ঠিকানা হইতে অন্যত্রে আত্মগোপন করায় তাহার সহিত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই। সর্বশেষ ইং ০১/০২/২০২২ তারিখ দুপুর অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময় কোতোয়ালী থানাধীন জুবিলী রোডস্থ তিন পুলের মাথা গোলাম রসুল মার্কেটের সামনে রাস্তার উপর হঠাৎ বিবাদীকে দেখতে পেলে আসামী উক্ত ‘‘স্বীকৃতি এ্যাপারেলস’’ পার্টনারশীপ চুক্তিনামার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে আসামী উক্ত চুক্তিনামা ও বাদীর নিকট হইতে নেওয়া ১৫,০০,০০০/-(পনের লক্ষ)টাকা ও মালামাল ক্রয় বাবদ ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা সহ সর্বমোট ১৬,৫০, ০০০/- (ষোল লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করতঃ আমার সাথে বিভিন্ন ধরনের হুমকী মুলক আচরণ করিতে আরম্ভ করে। আসামীর আচরনে বাদী থানায় সংবাদ দিলে এসআই/নয়ন বড়–য়া সঙ্গীয় অফিসার এএসআই/মোঃ মোশারফ হোসেন ও ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে গিয়া বাদীর নিকট হইতে ঘটনার শুনে আসামীকে হেফাজতে নেয়। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে। তাহাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, সে উক্ত গার্মেন্টেসের মালিক। বাদী আসামীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করলে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় ০১টি মামলা রুজু হয়।
আসামীর বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়া জানা যায় যে, তাহার নামে পাহাড়তলী থানায় অর্থঋণ আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত ০১টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত পাঁচলাইশ থানা এলাকার ডাকাতি মামলার ০১টি গ্রেফতার পরোয়ানা সহ ০২টি গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। আসামী একজন প্রতারক। সে এনজিওর মালিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে হালিশহর থানা এলাকার অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করিয়াছে। আত্মসাৎকৃত টাকা না দেওয়ার জন্য একের পর এক বাসা পরিবর্তন করে নিজেকে আত্মগোপন করে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণার মাধ্যমে অসংখ্য লোকজনের নিকট হইতে গার্মেন্টসের পার্টনারশীপ বানাইয়া টাকা ধার নেয়। টাকা ধার নিয়া কিছুদিন যোগাযোগ করে পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আসামী ইতিপূর্বেও র্যাব-০৭ কর্তৃক প্রতারনার মামলায় গ্রেফতার হয়। তাহাকে গ্রেফতার করা হইলে সে একেক সময় তাহার পিতা মাতার একেক নাম ঠিকানা প্রকাশ করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম ও ঠিকানা ঃ
১। পারভীন আক্তার(৫১), স্বামী-মোঃ জহিরুল ইসলাম প্রকাশ জহিরুল সাঈদ, পিতা-হাজী মোঃ আব্দুর শাহীদ প্রকাশ আব্দুর সাঈদ, মাতা নাজুদা বেগম প্রকাশ নাজুমা বেগম প্রকাশ মাসুদা বেগম, সাং ৩২০১ নেভী ভিলা, পুরান হরিদাশ রোড, দক্ষিণ কাট্টলী, থানা পাহাড়তলী, জেলা চট্টগ্রাম, বর্তমানে আর্টিলারী রোড, চুনা ফ্যাক্টরী মোড়, হল সেভেন কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে থানা হালিশহর, জেলা চট্টগ্রাম।