Wednesday, August 19

“করোনাভাইরাস বনাম মফস্বল সাংবাদিকতা!” -ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ

0

সংবাদপত্রকে বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভর সাথে জড়িত বা চতুর্থ স্তম্ভে যারা কাজ করেন সেই সাংবাদিকদের কোন স্তম্ভে ফেলবেন, বিবেচনা করুন!

বিভিন্ন মহামারী ও প্রতিকুলতার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হয় চতুর্থ স্তম্ভের চাকরদের। বর্তমানে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন সরকার। সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে ছুটি ভোগ করছেন। সরকারি নির্দেশ পালনের জন্য এটা ব্যক্তি ও দেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচত দিক।

করোনা মোকাবেলা করতে যাদের অবিরাম ছুটে চলা সেই চিকিৎসক, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এমনকি সিভিল প্রশাসনের জন্য পর্যাপ্ত না হলেও পিপিই বরাদ্দ করেছে বা আরও করবেন সরকার। কিন্তু মাঠে থাকা সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সাথে থেকে প্রত্যক্ষভাবে সরকাররের কার্যক্রম দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য অবিরাম ছুটে চলা সেই সাংবাদিকদের কি করোনা থেকে সুরক্ষার কোন প্রয়োজন নেই?

জেলা ও উপজেলাা পর্যায়ে একজন সাংবাদিক কি সম্মানী বা ভাতা পাচ্ছেন তা সংশ্লিষ্ট অফিস ও সরকার প্রধান ভালভাবেই অবগত রয়েছেন। সংবাদ কাভারের জন্য অফিসের নির্দেশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করা সাংবাদিকদের নৈতিক দ্বায়িত্ব। কিন্ত সেই সাংবাদিকেরা রাষ্ট্রযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বরাবর কেন উপেক্ষিত? কেন সাংবাদিকদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ?

করোনা মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো দেশবাসী কাছে তুলে ধরার জন্য সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যাদের ছুটে চলতে হয়। তারা কি কোন মানুষের পর্যায়ে পড়ে না? তাদের কি বাঁচার মৌলিক অধিকারটুকুও নেই ?

সবাই রাষ্ট্রের কাজ করেন সুরক্ষিত হয়ে, তাহলে সাংবাদিকেরা কেন অরক্ষিত সাথে সাংবাদিকদের যেতে হচ্ছে অরক্ষিত পোশাকে। বিচিত্র দেশ ! লক ডাউনে থাকা এলাকার মধ্যে সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কাজের তাগিদে সাংবাদিকদের অবস্থান করতে হয় জেলা বা উপজেলা শহরে। প্রেসক্লাব বা নিজের অফিসে। তারপরেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও বেশিরভাগ সময়ই সাংবাদিকেদের ভাগ্যে জোটে শুধুই বঞ্চনা।

বাড়িতে অনেক পরিবারের বাজার নেই, পরিবার স্বজনেরা কি খাবেন, তার কোন ব্যবস্থা না করেই সকাল হলে ছুটে চলতে হয় সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রোগ্রামে। কোন দিন জোটে খাবার, কোনদিন তাও জোটে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল দোকানপাট বন্ধ থাকায় এক মুঠো ভাত পাওয়াও এখন মুশকিল। জীবন বাঁচানো কঠিন।

-ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ,
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মি।
E-mail: ikhtiarazad@gmail.com
মুঠোফোন: 01728637440

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.