Monday, September 21

কাতার ‘দখল’ করা থেকে সৌদি আরবকে থামিয়েছিলেন টিলারসন

0

গত বছর জুনে কূটনৈতিক সংকট শুরু হওয়ার প্রথম দিকে কাতারে সামরিক অভিযান চালাতে চেয়েছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু তাদেরকে থামিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে শেষ পর্যন্ত কাতারে হামলা চালায়নি উভয় দেশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্টের অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

দ্য ইন্টারসেপ্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, কাতারে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় ছিল স্থল সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করতে সৌদি আরবের পদাতিক সেনা। সামরিক সহযোগিতা করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। স্থলপথে ১০০ কিলোমিটার এগিয়ে কাতারের রাজধানী দখল করা হবে।

দায়িত্বে থাকা এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সাবেক কর্মকর্তা এই তথ্য দ্য ইন্টারসেপ্টকে জানিয়েছেন। কাতারের বিরুদ্ধে এই অভিযানের নেপথ্যে ছিলেন মূলত সৌদি আরব ও আমিরাতে যুবরাজদ্বয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি ছিল।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বিরুদ্ধে হামলার জন্য সৌদি বাহিনী আল উবেইদা বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালাতে চেয়েছিল। এটি কাতারে মার্কিন বিমানবাহিনীর কেন্দ্রীয় ঘাঁটি ও প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কাতারের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর টিলারসন সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজকে হামলা না চালানোর অনুরোধ করেন বেশ কয়েকবার। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিসকেও আহ্বান জানান সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অভিযানের বিপজ্জনক দিক তুলে ধরতে।

টিলারসনের চাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পিছু হটেন। দখল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে খারাপ হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি।

দ্য ইন্টারসেপ্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিলারসনের এই উদ্যোগের কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ এই উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আবুধাবির প্রভাবশালী যুবরাজ মুহাম্মদ বিন জায়েদ।

এই বিষয়ে দ্য ইন্টারসেপ্টের পক্ষ থেকে টিলারসন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৫ জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এতে করে কাতার জল, স্থল ও আকাশপথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার অভিযোগে সৌদি নেতৃত্বের অভিযোগে এ অবরোধ আরোপ করা হয় কাতারের বিরুদ্ধে। যদিও কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.