
মঈন বাঙালী, (হাটহাজারী) চট্টগ্রাম: কথিত ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিতব্য ৩ দিন ব্যাপী কথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারী ) বেলা ১১ টায় আমীরে হেফাজতের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷
হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সহ হেফাজত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ৷ সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ৷
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী ৷
সংবাদিক সম্মেলনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ তথা কাদিয়ানী কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ইজতেমা বন্ধের জোর দাবী জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের। যেমন:
১. তাদের রচিত ও প্রকাশিত বইপত্রকে মুসলমানদের লেখা বই-পুস্তকের মত মনে করে সাধারণ মানুষ পাঠ করে বিভ্রান্ত হয় এবং নিজেদের ঈমান হারিয়ে বসে।
২. তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ মনে করে সেখানে নামায আদায় করে ধোঁকায় পড়ছে এবং অজান্তে তাদের ইবাদত বিফলে যাচ্ছে।
৩. কাদিয়ানী ধর্মমতের অনুসারী কোনো ব্যক্তি মুসলমানের ইমাম সেজে তাদের ঈমান-আমল নষ্ট করতে পারে।
৪. তারা মুসলমান পরিচয়ে নিজেদের মতবাদ-মতাদর্শ প্রচার করলে তাতে সাধারণ মুসলমান তাদের মুসলমানেরই একটি দল মনে করে তাদের মতবাদ গ্রহণ করে নিজেদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমান হারানো আশংকা রয়েছে।
৫. তারা মুসলমান নামে পরিচিত হওয়ার কারণে অনেক মুসলমান তাদের সাথে মুসলমানের মত আচার-আচরণ ও চলাফেরা করে। অথচ তাদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হওয়া উচিত এমনই, যেমন কোনো অমুসলিমের সাথে হয়ে থাকে।
৬. অনেক সাধারণ মুসলমান কাদিয়ানীদের মুসলমান মনে করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করার ফলে আজীবন ব্যভিচারের গুনাহে লিপ্ত থাকে।৭. কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বী গরীবকে যাকাত দিয়ে অনেক মুসলমানের যাকাতের ফরয বিধান বিনষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান।
৮. যে কোনো কাফের তথা অমুসলিমের জন্য হারাম শরীফে প্রবেশ নিষেধ। অথচ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরা মুসলিম পরিচয় দিয়ে হজ্ব ও চাকরির নামে সৌদি আরবে গিয়ে হারাম শরীফে প্রবেশ করে তার পবিত্রতা নষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছে।
৯. বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশেও অনতিবিলম্বে কথিত ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ তথা কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে সংখ্যালগু অমুসলিম ঘোষণা করা হোক।
১০. তাদের জন্য ইসলামী পরিভাষাসমূহ যেমন: কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও মসজিদ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হোক।
১১. আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিতব্য তথাকথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণা করা হোক।
সুতরাং তাদের তথাকথিত ইজতেমার আয়োজন ও কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পঞ্চগড় অভিমূখে লংমার্চসহ আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে।
কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক আকীদা রক্ষার আন্দোলন তো অবশ্যই, ধর্মীয় অধিকারের বিষয়ও বটে।
তাছাড়া কাদিয়ানীরা অমুসলিমরূপে ঘোষিত ও চিহ্নিত না হলে তাতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা লোকমান হাকিম, মাওলানা নোমানী মেখলি, মাওলানা ইসহাক নূর, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা রফিক নানুপুরী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা হাফেজ ফয়সাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা আলমগীর, মোহাম্মদ সরোয়ার কামাল ও মাওলানা আহসান উল্লাহ প্রমুখ