সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসায় থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগের তুলনায় ভালো আছেন। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া চিকিৎসকের বরাতে এ কথা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা শুরু করেছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার (ওবায়দুল কাদের) শরীরে কিছু ইনফেকশন ও কিডনির সমস্যা পাওয়া গেছে। তবে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোর প্রতিবেদন দুপুরের পর পাওয়া যাবে।
বিপ্লব বড়ুয়া আরও বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওবায়দুল কাদেরের পরবর্তী চিকিৎসা শুরু হবে। তবে তার অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রীর একান্ত সচিব গৌতম চন্দ্র পালও জানিয়েছেন, ওবায়দুল কাদের আগের তুলনায় ভালো আছেন।
এদিকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দূতাবাসের সঙ্গে তার চিকিৎসার বিষয়ে প্রতি মুহূর্তে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলোজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রিন্সিপাল ডক্টর ফিলিপ কোহ’র তত্ত্বাবধানে (আইসিইউ ৩০০৮) ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুর পৌঁছায়।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর গিয়েছেন তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী।
রোববার সকালে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সিসিইউর ২ নম্বর বেডে লাইফসাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। পরে সোমবার উপমহাদেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।