চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আজীবন সম্মাননা’ এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘টেলি সিনে লাইফ টাইম অ্যাচিভম্যান্ট’ অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পর সেই খুশি একমাত্র সন্তান ছেলে অনিকের সঙ্গে শেয়ার করতে গেলো সপ্তাহে কানাডার টরন্টোতে গিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা। আর সেখানেই এবার ছেলের সঙ্গে আজ জন্মদিন বিশেষভাবে উদ্যাপন করবেন বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা ববিতা।
পরপর দু’বছর ছেলের সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করতে পারেননি বলে ববিতার মন কিছুটা খারাপ ছিল। কিন্তু এবার আর যেন মন খারাপ না হয়, তাই জন্মদিনের আগেই তিনি সেখানে চলে গেলেন। তবে বাংলাদেশের অগণিত ভক্ত দর্শকের জন্যও ববিতার মন খারাপ থাকবে। মন খারাপ থাকবে তার দুই বোন সূচন্দা, চম্পার জন্য, মন খারাপ থাকবে তার চলচ্চিত্র পরিবারের জন্য। পাশাপাশি বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত ‘ডিসিআইআই’র ছোট ছোট যেসব শিশুরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আসছে, জন্মদিনে নেচে গেয়ে ববিতাকে আনন্দ দিয়েছে তাদের খুব মিস করবেন তিনি।
জন্মদিন প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই জানা অজানা অনেকের কাছ থেকেই শুভেচ্ছা, ভালোবাসা পেতে শুরু করি। খুব ভালো লাগে। তবে মন খারাপ হয় যে জীবন থেকে দ্রুত আরো একটি বছর চলে গেলো।
এবারের জন্মদিন অনিকের সঙ্গে করতে পারছি, এটাই অনেক আনন্দের বিষয়। ওয়াটারলু’তে আমার চাচাতো বোন, তাদের সন্তানরা আছে। কিন্তু বেশ দূর বলে তাদের আসা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অনিক বলেছে কী যেন সারপ্রাইজ আছে। জানি না কী সেই সারপ্রাইজ। এটা সত্যি প্রতিটি মুহূর্তেই আমি দেশকে, দেশের মানুষকে ভীষণভাবে মিস করি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ ববিতার একমাত্র ছেলে অনিক কানাডায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। শিগগিরই অনিক পিএইচডি করবেন বলেও জানান ববিতা।
কানাডা থেকে ববিতা আমেরিকা যাবেন দুই ভাইয়ের সঙ্গে ১০-১২ দিন সময় কাটাতে। ‘ডিসট্রেস চিলড্রেন ইনফ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল’র শুভেচ্ছা দূত ববিতা এরপর অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার বিভিন্নস্থানে দুস্থ অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করবেন ‘ডিসিআইআই’রই হয়ে। অক্টোবর মাসের শেষপ্রান্তে ববিতা দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
ববিতা অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ চলচ্চিত্র নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’। ববিতা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ববিতা। ‘বাদী থেকে বেগম’, ‘বসুন্ধরা’, ‘নয়নমনি’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’, ‘রামের সুমতি’, ‘কে আপন কে পর’ ও ‘হাছন রাজা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি এই সম্মাননায় ভূষিত হন।