Wednesday, August 19

কাপাসিয়ায় পুলিশের সাথে জনগণের লুকোচুরি খেলা

0

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় করোনাভাইরাস নিয়ে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। জনগণ পুলিশ প্রশাসনকে হাসির খোরাক বানিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অঘোষিত লকডাউনের আড়ালে চলছে সকল কার্যক্রম। বাড়ছে নানা ধরনের অনৈতিক কাজ। সরকারি চাল চুরির হিড়িক পড়েছে। অসহায়দের মাঝে ব্যক্তি উদ্যোগে ভ্রাণ বিতরণের নামে চলছে ফটোসেশন ও অনিয়ম। কাপাসিয়ার করোনা পরিশ্রিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে গুজব। দোকানের সাটার আংশিক খোলা রেখে দোকানিরা বাহির দিয়ে ঘুরে। সতর্ক থেকে বিক্রি করছে পণ্য-দ্রব্য। পুলিশের গাড়ির সাইরেনের শব্দ শুনে দোকানের সাটার নামিয়ে ভিতরে বসে থাকে তারা। বাজারে ঘোরাফেরা করা লোকজন লুকিয়ে পড়ে দোকানের পিছনে। পুলিশ চলে গেলে সুযোগ বুঝে বের হয়ে আসে তারা। এভাবেই প্রায় শাতধিক বাজারে হচ্ছে লোকসমাগম।

এছাড়াও দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করে বাজারে ঘুরে বেড়ায়। ক্রেতার কিছু প্রয়োজন হলে সাটার খুলে তা দিয়ে তাৎক্ষনিক দোকান বন্ধ করে ফেলে। গ্রামের তরুণরা অকারণে রাস্তাঘাটে ঘোরাঘুরি করছে। পাকা সড়কে পুলিশের ভয় থাকায় পাড়া-মহল্লার ছোট ছোট টং দোকানে বসছে জমজমাট গল্পের আসর। সবাই একে অপরের পরিচিত হওয়ায় প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছে এলাকার সচেতন মহল। করোনা অতঙ্কে বাজার করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অনেকে। এতে করে প্রতিদিনই বাজারে বাড়ছে মানুষের ঢল। সেখানেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। প্রশাসনে বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে দোকানিরা চোর-পুলিশ খেলে দোকান খোলা রেখে বাজার জমজমাট রাখছে। চায়ের দোকানে বসছে আড্ডা। গল্প হচ্ছে করোনা নিয়ে। পুলিশ বাজারের কাকে কোনদিন দৌড়ানি দিয়েছে সেই সমালোচনায় মেতে উঠে হাসি-ঠাট্রায়। করোনার ছুটিতে পরিবারের সকলে বাড়িতে থাকায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় পাড়ার মাঠে বসছে আড্ডা। পুলিশ প্রশাসনে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বোকা বানিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় চলছে গাড়ি। ব্যবহার করা হচ্ছে পাড়া-মহল্লার ভিতরের শাখা-উপশাখা সড়কগুলো। তরুণরা মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি চাল চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক সম্পাহে চাল চুরির জন্য মহিলা ইউপি সদস্যসহ ৬ জনকে জেল জরিমানা করা হয়েছে। চাল চুরির ঘটনা প্রকাশ করায় সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

কাপাসিয়া উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রত গাতিতে বাড়ছে। সদর ইউনিয়নের দস্য নারায়নপুর এলাকার ছোঁয়া অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের ১৬ জন শ্রমিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ নার্স, স্টোর কিপার, হিসাব রক্ষকসহ ১৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সকলে এখন আইসোলেসনে রয়েছে। পুরো উপজেলায় গত বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত মোট ৩৫ জন আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপজেলাবাসীর মাঝে। কাপাসিয়া সদর, দস্যু নারায়নপুর, ত্রিমোহনী, আড়াল, বীর উজলী বাজারের সকল দোকান ও সাপ্তাহিক হাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবুও মানুষ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবাদে ঘোরাফেরা করছে।

এ ব্যপারে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় জনবল সংকট রয়েছে। প্রতিদিন মাঠে আমাদের চারটি টিম কাজ করছে। আমরা পরিশ্রিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য চেষ্টা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ ইসমত আরা বলেন, করোনার ভয়াবহতা বুঝে নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। উপজেলায় চাল চুরির ঘটনা বাড়ছে। মানুষ সচেতন হওয়ার বদলে চুরি করছে। এখন আমরা চাল চোর ধরার জন্য কাজ করব, নাকি মানুষকে সচেতন করব?

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.