নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের চরবৈরাতী এলাকার চলাচলের এক মাত্র সড়কটি গত বছর বন্যায় ভেঙ্গে গেছে। বন্যার পানির চাপে ওই সড়কের ব্রিজটি অক্ষত থাকলেও ভেঙ্গে যায় সড়ক। গত ৮ মাসেও পুর্ণ মেরামত না হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরবৈরাতী গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের মাঠ থেকে ফসল আনতে হলে ব্রিজটি ছিল একমাত্র ভরসা। এছাড়া তুষভান্ডার থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের সহজ পথ হিসেবে চরবৈরাতী এলাকার এই ব্রীজটি একমাত্র মাধ্যম। এই বিপুল সংখ্যাক মানুষের জন্য ৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বছরে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে বন্যায় তীব্র পানির স্রোতের কারণে ব্রিজের সংযোগ সড়কটির এক অংশ ভেঙ্গে গিয়ে খালের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারন মানুষ ও যানবাহন চলাচলসহ মাঠ থেকে ফসল আনতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। চলাচলের জন্য স্থানীয় ভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল। ব্রিজটির এ অবস্থার কারণে চরবৈরাতী গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।বাঁশের সাঁকো তৈরী করে লোকজন চলাচল করলেও যান বাহন ও পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সব চেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী নিয়ে। যান-বাহন চলাচল করতে না পারায় ওই এলাকার লোকজন ঘাড়ে করে রোগী নিয়ে ভাঙ্গা সড়ক পারাপার করেন। এ ছাড়া ওই এলাকা গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদেরও চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে ভাঙ্গা সড়ক নিয়ে।
ওই এলাকার অনেকেই বলেন, তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি। এই রাস্তা দিয়ে কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিভাগীয় শহর রংপুর ও জেলা শহর লালমনিরহাটে প্রবেশ করেন। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চর বৈরাতী এন জামান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন, শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন, কৃষক হাকিম উদ্দিন, মৌলভী হানিফসহ কয়েকজন বলেন, চর বৈরাতী এলাকাবাসীর র্দীঘদিনের প্রাণের দাবী ছিল এই ব্রিজটি। গত বছর বন্যায় সংযোগ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় ব্রীজটি দিয়ে চলাচল করতে পারি নাই। আমরা স্থানীয় ইউ-পি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী, পিআইও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোন সমাধান পাচ্ছি না। তারা শুধু বলছে, বরাদ্দ এলেই মেরামত হবে। আবারও বন্যা আসছে। কবে বরাদ্দ পাবো তাও জানি না।
এ বিষয় তুষভান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল হাট বাজারে নিয়ে যান। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার প্রয়োজন। সড়কটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলেছি। সড়ক দ্রুত সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হলে এ দুর্ভোগের অবসান হবে।