কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ওই হত্যাকারী পালিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে বুধাবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।
নিহতরা হলেন- রাধানগর গ্রামের মৃত শাহ আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫), তার ছেলে হানিফ (১৩), নরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা এবং মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী মাজেদা।
হত্যাকারীর নাম মোখলেছুর রহমান। তিনি পেশায় রিকশাচালক। তার বাবা নাম মোরতুন আলী।
জানা গেছে, সকালে মোখলেসুর বাড়িতে এসে ঘর থেকে দা নিয়ে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসায় ঢোকে। ঘরে থাকা নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগমকে আচমকা কোপাতে শুরু করে। নুরুল ইসলাম স্ত্রীকে বাঁচাতে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে মোখলেস। তাদের আর্তচিৎকারে নুরুল ইসলামের মা মাজেদা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
এর পর মোখলেস রক্তমাখা দা নিয়ে যায় আরেক প্রতিবেশী শাহ আলমের বাড়িতে। সেখানে শাহ আলমের ছেলে স্কুলছাত্র আবু হানিফকে (১০) জবাই করে হত্যা করে। ছেলেকে বাঁচাতে এলে শাহ আলমের স্ত্রী আনু বেগমকেও জবাই করে মোখলেস। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন মোখলেসকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীরা নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী নাজমা ও মা মাজেদা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা নাজমা ও মাজেদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম নুরুল ইসলাম বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের খবরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
তবে কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা এখনো জানা যায়নি।