মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে এখন পর্যন্ত তিন নারীসহ অন্তত চারজন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। মৌলভীবাজারের জেলা পুলিশ সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় রেলপথের একটি কালভার্ট ভেঙে উপবন এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি খালে পড়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানিয়েছে, রাত ২টা পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি মৃতদেহ ছিল। এর একটি মস্তকবিহীন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬০ জন। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক আঘাত থাকায় ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক থেকে ভেতর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা আহতদের দেখতে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে পরিচিতদের খোঁজ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে আসেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. শাহজালালসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রথম আলোকে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন, কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন ৪ জনের লাশ রয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ১ জন পুরুষ। নিহত এই চারজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি কুলাউড়ার কাদিপুর ইউনিয়নের গুপ্ত গ্রামের বাসিন্দা বারি মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা পারভীন (৪৫)। পরাভীনের স্বজনেরা তাঁর লাশ শনাক্ত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাতে বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিকের বগিতে বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে সামনে বড়ছড়া ব্রিজ ভেঙ্গে নীচে ১টি বগি পড়ে যায়। আরো ৩টি বগি ব্রিজের পাশে উল্টে দুমরে মুচড়ে পড়ে। অন্য আরো দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
ঘটনার পরপর এলাকাবাসী, ফায়ার সার্ভিসের ২৭টি ইউনিট ও পুলিশ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ চালায়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজে সহায়তা করার জন্য ২ প্লাটুন বিজিপি ঘটনস্থলে কাজ করছে। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে লাশ পড়ে আছে।