লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
আর করব না ধান চাষ, দেখব তোরা কি খাস? এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয়সহ ১০ দফা দাবীতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছে।
রোববার (২৬মে) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে গভীর উদ্যেগের সাথে সাধারন কৃষকরা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পূনরায় ক্ষমতায় আসার পূর্বে নির্বাচনী ইসতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা ক্ষমতায় গেলে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত করবেন। জ্বালানী তেল, সার, বীজ, কীটনাশকের মুল্য বৃদ্ধি করবে না। কৃষকের উৎপাদিত পন্য ধানসহ সকল পণ্য ন্যায্য মুল্যে বাজারজাত করন, সংরক্ষন ও কৃষি ভুতুর্কি নিশ্চিত করবে। কিন্তু আমরা কি দেখছি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকার জনগনের কথা চিন্তা না করে কৃষকের কথা না ভেবে বিশ্ব ব্যাংকসহ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিভিন্ন নীতি নির্ধারন করছে। কৃষি পণ্যেও ন্যায্য মুল্য, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি না করে বহুজাতি কোম্পানীর স্বার্থ সংরক্ষন করছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য প্রতি বছর সরকার ধান এবং চালের মুল্য নির্ধারন করেন, কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকরা তাদের সেই উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মুল্য পান না। সরকার দলীয় লোকজনের কাছে ধান সংরক্ষন করায় আমাদের দেশের কৃষকরা তাদের ন্যায্য মুল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে। যার ফলে প্রতি বছর দেশের কৃষকরা লোকসান গুনে গুনে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এদেশের কৃষকের এক মন ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়, ৯শ থেকে এক হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে এক মন ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা। তারা তাদের ঘাম ঝড়ানো উৎপাদিত পণ্য ধানের ন্যায্য নির্ধারন করা, শস্য বীমা চালু করা, সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় করা, হাট বাজারে ধান ক্রয় কেন্দ্র চালু করা এবং সার, বীজ, কীটনাশকসহ সকল কৃষি পণ্যের দাম কমানোর দাবী জানান। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ নজমুল হক খাঁজার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাড. মধুসুদন রায় মধু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. ময়েজুল ইসলাম ময়েজ, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. রফিকুল ইসলাম, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি গৌর গোপাল সাহা, কৃষক নেতা বাহার তালুকদার, রনজিৎ কুমার রায়, যুব ইউনিয়ন নেতা নিরঞ্জন কুমার সিংহ, ছাত্র নেতা বদিউজ্জামান ও তপন কুমার রায় প্রমুখ।