অদ্য ২৩ অক্টোবর বুধবার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আবদুল খালেক মিলনায়তনে কেজিডিসিএল ঠিকাদার-গ্রাহক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানী কর্তৃক গ্রাহকদের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা গ্রহণ করে গত ৫ বছর যাবৎ প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহকের আবাসিক সংযোগ প্রদান না করার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে এই আবাসিক সংযোগ প্রদানের দাবিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেজিডিসিএল ঠিকাদার-গ্রাহক ঐক্য পরিষদের সংগ্রামী আহŸায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানী কোটি কোটি টাকা গ্রহণ পূর্বক গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ১৮ কর্মদিবসের মধ্যে আবাসিক গ্যাস সংযোগ্য প্রদান করা হবে এবং গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দপ্তরকে চিঠি দিয়ে রাস্তা খননের জন্য হাজার হাজার টাকা গ্রাহকের নিকট থেকে পরিষদ করিয়েছে এবং ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজও সম্পন্ন করিয়েছে। আজ আমাদের প্রশ্ন গ্যাস কর্তৃপক্ষ চুক্তি করার পরও কেনো সংযোগ প্রদান করছে না? বর্তমান সরকারের পলিসি অনুযায়ী পাইপ লাইনের মাধ্যমে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়া না হলেও এতে আমাদের কিছু বলার নেই, যেহেতু এটা সরকারের পলিসি তা আমরা মেনে নিয়েছি। টাকা নিয়েও কেজিডিসিএল সংযোগ বন্ধ রেখেছে, এতে গ্রাহকের দোষ কোথায়? এখনে তারা সরকারের দোহাই দিয়ে এবং গভীর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে চট্টগ্রামের গ্রাহকদের চরম হয়রানি করছে। শুধু জামানতের টাকা দেয়া হয়েছে তা নয়, টেবিলে টেবিলে বকশিসের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা গ্রাহক ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। কিছু কিছু সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি অংশের ষড়যন্ত্রের কারণে আজকে এই ২৫ হাজার গ্যাস সংযোগ আটকে গেছে। তারা আসল বিষয়টি সরকারের কাছে প্রকাশ না করে শুধু নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা কিন্তু নতুন গ্যাস সংযোগ চাইতে আসিনি এবং সরকারের বিরুদ্ধেও কিছু বলতে আসিনি। আজকের সভা থেকে কেজিডিসিএল এর কিছু কিছু দূর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিষয় তদন্ত করতে দুদককে গণশুনানি করার জন্য আহŸান জানাচ্ছি। আমাদের প্রশ্ন কর্মকর্তারা কত টাকা বেতন পায়, কিভাবে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দূর্নীতিকে জিরো টলারেন্স এবং দূর্নীতিকে না বলার নীতি সফল করার জন্য এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের তদন্ত এবং দুদকের গণশুনানির খুবই প্রয়োজন। আমাদের পরিস্কার কথা আবাসিক গ্যাস লাইনের অনুমোদন কেজিডিসিএল দিয়েছে, জামানতের অর্থ নিয়েছে কেজিডিসিএল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে টাকা পরিশোধ করিয়েছে কেজিডিসিএল। অতএব, কেজিডিসিএলকেই এই অপেক্ষমান ২৫ হাজার আবাসিক সংযোগ প্রদান করতে হবে এর কোনো বিকল্প নেই। সংযোগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং রীট করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বর্তমান কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানীর এমডি গ্যাস মন্ত্রণালয় সচিবের কাছে কথা বলতে গেলে তার পা কাঁপে। এমডি সাহেব এই ২৫ হাজার গ্রাহকের বিষয় সরকারকে অভিহিত করার সাহস পাচ্ছে না। এ ধরণের অথর্ব এমডিকে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানী থেকে বিদায় করা হোক। একজন সৎ ও যোগ্য এমডিকে নিয়োগ প্রদান করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রধান বক্তা বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় স্ট্যাডিং কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইন্দুনন্দন দত্ত বলেন, কর্ণফুলী অফিসে কিছু অসৎ প্রকৃতির কর্মকর্তা বর্তমান এই জনপ্রিয় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য অর্থ পরিশোধকৃত এবং সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহকের আবাসিক সংযোগ বন্ধ রেখেছে। এমনকি জনগণের সঙ্গে সরকারকে মুখোমুখী করার পাঁয়তারাও করছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহŸায়ন জানাই, ২৫ হাজার আবাসিক সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করে গ্রাহকদের দূর্ভোগ লাঘব করুন। কেজিডিসিএল ঠিকাদার-গ্রাহক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক আলী নাওয়াজের স ালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিটুল দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক তাজুল মুল্লুক, জাসদ চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, জাসদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল আলম খান। সূচনা বক্তব্য রাখেন কেজিডিসিএল ঠিকাদার-গ্রাহক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব এ.কে.এম অলিউল্লাহ হক। আরো বক্তব্য রাখেন ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান সুফী, ঐক্য পরিষদ নেতা মানিক হাওলাদার, প্রশান্ত বড়–য়া, নবী চৌধুরী, আবদুল মালেক, শওকত হাওলাদার, খোরশেদ আলম প্রমুখ।