Saturday, August 29

কোরবানীর হাটের হিরো নাগরপুরের খোকা বাবু ১ টন

0

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরের নঙ্গীনা বাড়ির মো. আবুল কাশেম মিয়ার আদর যত্নে লালিত পালিত খুব শান্ত স্বভাবের খোকা বাবু। শোনা মনির মতই, একটি ষার গরুর নাম খোকা বাবু। উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের হিসেব (LG²/৬৬০) মতে, খোকা বাবুর ওজন প্রায় ১০০০ কেজি বা ২৫ মন হবে।
স্বভাবের সাথে মিল দেখে রাখা নাম, খুবই শান্ত ও রোগ মুক্ত এবং স্বাস্থ ঝুঁকি নেই এমন ষার গরু খোকা বাবু কে দেখতে প্রতিদিন শত শত কৈতুহূলী জনসাধারন ভীর করে কাশেম মিয়ার বাড়িতে।

গরু পালনের বিষয়ে কাশেম বলেন, আমি কৃষকের সন্তান। গরুর ফিট খাবার খাওয়ানো সাধ্য নেই। তাই ২ বছর আগে দুই দাতের খোকাকে ক্রয় করে নাগরপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ডা. মো. ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ স্যারের যোগাযোগ করি। স্যার বল্লেন, আপনি গরুর ওজন এবং প্রয়োজন এর ভিত্তিতে প্রাকৃতিক (ব্যালেন্সড) সুষম খাবার খায়ালে অর্থ ও ঝুঁকি দুই কমবে এবং নিরাপদ মাংস উৎপাদিত হবে। সেই থেকে শুরু খোকার খাদ্য তালিকা।
এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবুজ ঘাশ, গাছের পাতা, খর, ভূষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, সরিশা/ সয়াবিনের খৈল, নালি, চাউলের কুরা, লবন, পরিমান মত পানি। নিয়মিত গোসল করানো, পরিস্কার ঘরে রাখা, বাবুর ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা, হাটতে নেয়া, রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেয়া ও কৃমির ঔষধ খাওয়ানো এ সকল বিষয় স্যারের পরামর্শেই আজ খোকা ১ টন।

গরু মোটা তাজা করনের ঔষধ ও ইনজ্ঞেকসন ব্যবহার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে কাশেম বলেন, খোকার ওজন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমান মত সম্পূর্ন প্রাকৃতিক খাবারেই লালিত পালিত। বিজ্ঞানসন্মত সঠিক পরিচর্যায় ৪ দাঁতের ৪ বছরের খোকা বাবু প্রাকৃতিক খাদ্যেই আজ ২৫ মন ওজনের হয়েছে। তিনি এ বছর মোট চারটি ষার ঈদের হাটে নেবেন। ক্রেতাদের ক্রয় সীমার বিবেচনায় অপর তিনটি গরু অপেক্ষাকৃত ছোট।

খোকা বাবুর দামের প্রত্যাশায় কাশেম বলেন, বাজার বরাবর বিক্রি করতে হবে। বাজার ক্রেতা ও গরুর যোগানের উপর নির্ভরশীল তবে আমি ১৫ লক্ষ টাকা চাচ্ছি।
আগামী ঈদের তিনি এমন গরু নাগরপুরবাসী কে উপহার দেবে কি না প্রশ্নের জবাবে বলেন, যদি পরিশ্রমের মূল্য পাই তবে অবশ্যই চেষ্টা করব আরো ভাল করার।

দর্শনার্থী আব্দুর রাজ্জআক বরেন, কাশেমের খোকা বাবু সত্যিই দৃষ্টি নন্দন এবং প্রশংমার দাবীদার। কারন, কোন প্রকার বিষাক্ত ঔষধ ব্যবহার না কওে এমন গরু বানানো সম্ভব নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বস করা কঠিন।

খোকা বাবুর বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের (ভি.এস) ডা. মো. ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ বলেন, আমাদের উপজেলা লেভেলে বড় গরুর চাহিদা মেটাতে কাশেম মিয়ার উদ্যোগ সত্যিই প্রসংশার দাবীদার। তিনি ২ বছর যাবৎ আমাদের দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নিরাপদ মাংস উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে। গরু মোটা তাজা করনের ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার না করে আমাদের বিজ্ঞান সন্মত নিবির পর্যবেক্ষন, প্রাকৃতিক সুষম খাদ্য ও কাশেমের প্রচেষ্টায় খোকা বাবু আজ প্রায় ১০০০ কেজি হয়েছে। তার কাজের মূল্যায়ন হলে তিনি সহ অনেকেই উৎসাহিত হবে সল্প খরচে গরু পালনে। এতে করে নিরাপদ মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.