চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি অনুষদের ইলেক্ট্রিক্যাল & ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্স সহ মোট ৬ টি চলমান ব্যাচ সারা দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের যে যৌক্তিক আন্দোলন হচ্ছে তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, দেশব্যাপী সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর হামলালাকারীদের বিচার, কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের প্রজ্ঞাপন এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের হয়রানি না করার দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়ে সকল ক্লাস,পরীক্ষা, ল্যাব বর্জন করেছে।
গত শনিবার রাতে তারা তাদের এই বর্জন কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হলে,পরদিন রোববার ও
আজ সোমবার ডিপার্টমেন্ট এ ছাত্রছাত্রীদের কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
উক্ত বিভাগের এক ছাত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ন্যাশনাল নিউজ২৪ কে জানিয়েছে যতদিন পর্যন্ত এই আন্দোলনের সুরাহা না হবে, শিক্ষক- ছাত্রছাত্রীদের উপর থেকে হামলা বন্ধ না করবে , যে পর্যন্ত ককোন সুফল বয়ে না আসবে,আন্দোলন কর্মীদের মুক্তি না দিবে, আহতদের চিকিৎসা না দিবে ততদিন পর্যন্ত এই ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলতে থাকবে।
এদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো বেশ কয়েকটি অনুষদের বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আসছে।
অন্যদিকে চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী আর রাজী স্যার এবং সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম স্যারকে ছাত্রলীগ হুমকি ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করার অপরাধে উক্ত অনুষদের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মানববন্ধন করেছে। আর এতেও ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানববন্ধনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
এদিকে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্তৃক অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিভাবকবৃন্দ। এবং কোটা সংস্কারের ব্যাপারে যে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে পনেরো দিনের মধ্যে যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিলো তা না দিতে পারায়,বরং আরো তিনমাস সময় হাতিয়ে নেওয়াটাকে সরকারের চালাকি হিসেবে ভাবছে দেশের প্রতিটি মহল।
প্রসঙ্গত চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা চলমান আন্দোলনের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে একটি বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়া।