মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে এনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো পঙ্গু হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। খালেদা জিয়া এখন এত অসুস্থ যে, তিনি নিজে হাতে ধরে কিছু খেতেও পারেন না। তাকে অন্যের সাহায্যে খাইয়ে দিতে হয়। তিনি হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। এমনকি বিছানা থেকেও দুজনার সাহায্যে তাকে তুলতে হয়। অথচ সরকারের যে মদদপুষ্ট হাসপাতাল, সেই হাসপাতালের পরিচালক বলেন, তিনি (খালেদা) আগের চেয়েও সুস্থ।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই যে মিথ্যা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, এর জন্য পরিচালকের বিচার হওয়া উচিত। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যে রিপোর্ট তারা দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। আমরা স্পষ্টভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সঠিক তথ্য প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন একটা সরকার। এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখার মানে হচ্ছে— জনগণের সর্বনাশ করা। আজকে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আজকে মানুষ চাল কিনে খেতে পারছে না।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঢাকঢোল পিটিয়ে ভারত সফরে গেলেন। আমরা আশা করেছিলাম, সেখানে তিস্তা নিয়ে চুক্তিগুলো সম্পন্ন হবে এবং আমরা ন্যায্য হিস্যা পাবো। কিন্তু তিস্তার এক ফোঁটা পানিরও চুক্তি হয়নি।অন্যদিকে ফেনী নদীর পানি তাদেরকে দেওয়ার জন্য চুক্তি করে এসেছেন। আজকে গ্যাস আমদানি করে আগরতলাতে পাঠানো হচ্ছে। অর্থাৎ, আমদানি করে তা রফতানি করা হচ্ছে। জনগণ এত বোকা নয় যে, বুঝতে পারো না।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আজকে বঙ্গোপসাগরে রাডার লাগানো হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ভারত সেই রাডারগুলো বসাবে এবং তারা পর্যবেক্ষণ করবে। আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছি এবং আবারও চাই। তাদেরকে এই চুক্তিগুলোর পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আমার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা হচ্ছে কিনা, আমরা এ বিষয়ে সরকারের কাছে আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে জনগণের মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি। তাই আজকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা বারবার বলেছি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। দেশ প্রেমিক শক্তিগুলোকে একত্রিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদেরকে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধ্য করতে হবে।’
মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাধারণ সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন শেষে ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।