
রাজধানী ঢাকার কয়েক শতকের পুরনো এলাকা চকবাজারে বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০ জনে পৌঁছেছে। অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা বলছেন, মৃতের সংখ্যা আর বাড়তে পারে। তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন।
নিয়মনীতি শিথিল হওয়ার কারণে বাংলাদেশের বড় বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বলতে গেলে অহরহ। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ এতে নিহত হয়েছেন।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের পরিচালক জুলফিকার রহমান রয়টার্সকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
বুধবার দিবাগত রাতে তিনশ বছর আগের মোঘল আমলের স্মৃতিবিজরিত পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার একটি চারতলা ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরবর্তীতে যা আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
জুলফিকার রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত অর্ধশত আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শত শত লোক স্বজনদের খোঁজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জড়ো হয়েছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই শতাধিক অগ্নিনির্বাপণ কর্মী পাঁচঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেছেন। সাংবাদিকদের তারা বলেন, যে ভবনটি থেকে আগুন শুরু হয়েছে, সেটিতে প্লাস্টিকের গুদাম ও দাহ্য পদার্থ ছিল।
জুলফিকার বলেন, কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো তদন্তাধীন।
তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পানির অভাবে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। কাছের একটি মসজিদ থেকে পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবনসুরক্ষা নীতিমালা বাস্থবায়নের ক্ষেত্রে শিথিলতা সামনে নিয়ে এসেছে এ অগ্নিকাণ্ড। এতে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় কয়েক লোক মারা যান।
২০১৩ সালে সভারের রানা প্লাজা ধ্বসে ১১০০ শ্রমিক নিহত হন। এছাড়া ২০১২ সালে আরেকটি গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হয়েছিলেন।