
চকবাজারের আগুনে পুড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউসার আহমেদ নামের এক ছাত্র মারা গেছেন। তিনি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কাউসারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী বেনজির আহমেদ। তিনি জানান, কাউসারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সে খুব ভালো শিক্ষার্থী এবং নম্র-ভদ্র ও চুপচাপ স্বভাবের ছিল।
কাউসার সূর্যসেন হলে থাকতেন কিন্তু কাজ করতেন চকবাজারের চুড়িহাট্টায় এক ফার্মেসিতে। নিজের আয়ে পড়াশুনা করতেন কাউছার। প্রতিদিনের মতো গতকালও তিনি কাজে গিয়েছিলেন কিন্তু জীবিত ফিরতে পারেননি।
পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী জামে মসজিদ এলাকার আল-মদিনা ফার্মেসিরও স্বত্বাধিকারী। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ছেলে কাউছার দোকানটির আয় দিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণের ভারও নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন।
বুধবার রাতের ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা গেছেন কাউছার। তাঁর ফার্মেসিও ছাই হয়ে গেছে আগুনের লেলিহান শিখায়। সঙ্গে দোকানের চিকিৎসকও মারা গেছেন। তাঁদের দুজনের লাশই ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। মর্গের সামনে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিলাপ করছিলেন কাউছারের মা ও ভাই হাফিজ আহমেদ।
রাজধানীর চকবাজারের আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, কেমিক্যাল গোডাউনে রাসায়নিক পদার্থ ছিল। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। দ্রুত আগুন ছড়িয়েও পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। পুরো ভবন খুঁজে দেখা হচ্ছে আরও মৃতদেহ আছে কিনা।
তিনি বলেন, রাসায়নিক গুদামের ভবনের সামনে কয়েকটি গাড়ি ছিল যেগুলো গ্যাসে চলতো। এই আগুনের কারণে গাড়িগুলো বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি গাড়ির ভেতর অনেকগুলো সিলিন্ডার ছিল হয়তো আশপাশের বাড়িতে ও হোটেলে গ্যাস সরবরাহের জন্য সেগুলো ছিল। ওই গাড়িটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।