
হায়দার আলী সওদাগর
সরওয়ার কামাল জামান, কক্সবাজার জেলা সংবাদাতা: কক্সবাজার জেলাধীন চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চরপাড়া মোহাম্মদ হায়দার আলী সওদাগরের দোকানে ভয়াবহ ডাকাতি ঘটনা ঘটছে। গতরাত ২.০০ মিনিটের দিকে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই মধ্যম চরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে বলে জানা যায়।
মূলত হায়দার আলী সওদাগরকে হত্যার উদ্দেশ্যে চিহ্নিত ডাকাত দল রাত দুইটায় হামলা করেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি । সন্ত্রাসী আব্দুশ শুক্কুরগং দলবল নিয়ে রাতের আধারে হামলা চালালে হায়দার সওদাগর প্রাণের ভয়ে পালিয়ে গেলে তার দোকান ভেঙ্গে ডাকাত দল একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, ৫০ হাজার টাকার মতো সিগারেট এবং ২১ হাজার নগদ টাকাসহ তাই এক লক্ষ টাকার মতো মালামাল নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন দামি মালামাল লুটপাট করেছে ডাকাতদল। তবে প্রতিপক্ষ অভিযোগটি অস্বীকার করে একথা নিজেরাই ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হায়দার আলী সওদাগরের দোকানের ভিতরে-বাইরে বিক্ষিপ্তভাবে মালামালগুলো পড়ে আছে। টাকার বক্সটি ভাঙ্গা। দোকানের মজবুত তালাটি ভেঙে ফেলেছে ডাকাত দল।
এই দুর্ধর্ষ ডাকাতিতে স্থানীয় অধিবাসী মোঃ আব্দুস শুকুর (৪০), পি: মোঃ কালু, বাদশা মিয়া (৩২), পিতা সৈয়দ আহমদ, রবি (৩৫), পিতা: সৈয়দ আহমদ, নুরুল মোস্তফা (২৫), পিতা সিদ্দিক আহমদ এবং রিয়াজউদ্দিন (৩৩), পিতা মোহাম্মদ আবু অংশগ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন হায়দার আলী সওদাগর।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল বলেছেন, এখানে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুনেছি। তবে বিষয়টি যাচাই করা ছাড়া কোন ধরনের মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেছেন, ডাকাতি হওয়ার পর আমি সরেজমিনে গিয়েছি। মালামালগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকতে দেখেছি। এটা ডকুমেন্ট স্বরূপ আমি তার ছবিও তুলেছি। তবে কি ডাকাতি করেছে তা আমার জানা নেই।
স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মোঃ নুরুল কাদের বলেছেন, আব্দুশ শুক্কুরগং প্রতিহিংসামূলক হায়দার আলীর উপর আক্রমণ করেছে। আব্দুস শুকুর খুব বেশি উগ্রপন্থী এবং বকাটে টাইপের। হায়দার আলীর সরলতাকে পুঁজি করে তাকে হত্যা এবং তার ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে আব্দু শুক্কুরগং।
ডাকাতির বিষয়ে আবদুস শুক্কুরের সাথে যোগাযোগ করলে মোবাইল ফোন তিনি প্রথমে কথা বলতে চাননি পরবর্তীতে কথা বলতে রাজি হলে সে জানিয়েছে এসব ডাকাতি আমরা করিনি এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা।
অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাদশা মিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, আমি কাজটি করিনি। আমি একজন ভালো মানুষ। তারা যদি প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমি দোষী সাব্যস্ত হবো এবং অপরাধ মেনে নিব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া বহদ্দারকাটা বিটের এস আই মোঃ ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সামান্য বিষয় নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ হবার সম্ভাবনা ছিল। রাত ১০ টায় আমরা বিষয়টি মিটমাট করে দিয়েছি। তবে ডাকাতির বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ইনসেটে হায়দার আলী সওদাগর এবং তার দোকানের বিক্ষিপ্ত মালামালের কিছু খন্ডচিত্র