কিউ এইচ কবিরঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমুল এলাকা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে। এলাকা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পরছে সন্ত্রাসীরা। জানা যায়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষমতার পালা বদলে বিগত সরকারের আমলে ছিন্নমুলের নেতৃত্ব দানকারী আগের নেতারা যখন এলাকা ছেড়ে চলে যায়, তখন পটপরিবর্তনে বিএনপি ও জামাতের নতুন কমিটির মাধ্যমে পুনর্গঠনে তৎপরতা শুরু করেন। এরই মধ্যে এই পাহাড়ি এলাকাটি ঘিরে শুরু হয় প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। একসময় এই এলাকায় যারা আওয়ামী পরিচয়ে ছিল এখন অনেকে বিএনপির হয়ে নেতৃত্বে আসছে এমন অভিযোগও উঠে আসে প্রতিবেদকের কাছে। এলাকার কয়েকজন বলেন, গত কয়দিন ধরে ছিন্নমূলে চলছে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানী। তাদের কয়েকজন বিএনপির কর্মি পরিচয় দেয়। এখন এই এলাকায় সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন কাউকে না কাউকে হামলা করছে। তাদের পৈশাচিক আক্রমনে গত দুদিনে গুরুতর আহত ও অঙ্গহানী হয়ে তিন চারজন করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছে। কারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে এই বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে গেলে আহতদের সুত্রে জানা যায়, ইসলামপুরের বাসিন্দা ছায়িদ ও ছিন্নমুলের রিদোয়ানসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা গত ১৫ তারিখ দিবাগত রাত ১২টার দিকে কাজী মশিউরের ছেলে কাজী শিবলু, ইসমাইল ও রফিকুল্লাহ হামিদিকে গুরতর আহত করে। সেরাতেই গুরতর আহত অবস্হায় চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন ও স্হানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন বলেন,তারপরের দিন রিদোয়ানের সাথে ছায়িদের হয়তো ভাগাভাগির গড়মিল হয়, এতে রিদোয়ান গংরা উল্টো ছায়িদকে মেরে গুরতর আহত করে। সেইসাথে আহত হন শামশু, সোহেল, শাহাবুদ্দিন সহ আরও কয়েকজন। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছায়ীদ বলেন, আমাকে মেরেছে রিদেয়ান, ইয়াছিন, মাসুদ, বাচ্চু, টুটুল পারভেজ সহ ৩০ থেকে ৩৫ জন। আমার পায়ে অনেক জখম হয়েছে। শরীরেও আঘাত পেয়েছি। জানিনা সুস্হ হয়ে হাটতে পারবো কিনা।
আহত ইসমাইল বলেন, ছায়িদরা আমার ঘরে যেয়ে অতর্কিত হামলা করেছে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা হামলা করেছে। আমার হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে। আমার মোবাইল, টাকা, ঘরে থাকা স্বর্নের জিনিস নিয়ে গেছে। এখন শুনেছি আমার ঘরও দখলে নিয়েছে। আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আহত রফিকুল ইসলাম হামিদী বলেন, আমার গায়ে তারা শুধু হাত দেয়নি, আমার মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। আমি নতুন করে সীম তুলেছি। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রুকুনুদ্দিন মেম্বার বলেন, যারা মেরেছে ছায়িদ বা রিদোয়ান বিএনপির কেউ না। এসব হামলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। তাছাড়া ছিন্নমুলের আভ্যন্তরীন অনেক বিষয় আমি জানিনা। আমরা শুধু দলীয় বিষয়গুলো দেখি। এ বিষয়ে কাজী মশিউর বলেন, কোন রাজনৈতিক ছত্রছায়া না থাকলে আমার ছেলে শিবলু সহ আট দশজনকে কিভাবে পৈশাচিকভাবে মারা হয়। যারা আজ ছিন্নমুলের মাটি ও বসতিদের ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে তাদের ইন্ধনে এসব হামলা, চাঁদাবাজী, জবরদখল করছে। আহতরা সবাই মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। কোন সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবেনা। এইসব হামলার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।