চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার জামে মসজিদের নির্মানাধীন দুতালা ইমারত(সপিং কমপ্লেক্স) নির্মান নিয়ে এলাকায় চলছে চরম উত্তেজনা। যে কোন মুহুর্তে হতে পারে সংঘর্ষ।
ইমারতটি লালখান মৌজার আর এস দাগ নং ১০৪ এবং বি, এস দাগ নং ১৭৯৮(অংশ) (কর্ণার হোটেল মোড়) নর্দান ডেভেলপমেন্ট টাওয়ার পার্শ্বে অবস্থিত। এখানে পূর্ব থেকেই মসজিদের অধীনে টিনসেড দোকান ছিল। যার ভাড়া তুলতো মসজিদ কতৃপক্ষ। বর্তমানে সেই টিনসেড দোকান গুলো সরিয়ে মসজিদের নতুন কমিটি ইমারত(সপিং কমপ্লেক্স) নির্মান করে মসজিদের আয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইমারত নির্মান শুরু হয়। এর মধ্যেই নতুন গঠিত কমিটি ও হিসাব নিকাস নিয়ে এলাকায় দ্বন্ধ শুরু হয়। যে কোন মুহূর্তে সৃষ্টি হতে পারে অস্থির অবস্থা।
সিডিএর নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০১/০৭/২০১৮ইং তারিখে দেয়া কারণ দর্শানো নোটিশে স্বারক নং অর্থ-১/বিসিএন/৫৫/২০১৮/১১৩ এর কারণ দর্শানো নোটিশে জানা যায়, ইমারতটি সম্মূখস্থ রোড চউক ডেটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে ৩০ ফুট রোডের প্রস্থাবনা রয়েছে। উল্লেখিত অনুমোদন বিহীন ইমারতের মালিক/দখলকারকে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য আদেশ দেয়া হলো। কমিটি সূত্রে জানা যায়, সেই নোটিশের জবাব এখনো দেয়া হয়নি।
লালখান বাজার জামে মসজিদ সভাপতি আলহাজ্ব কাজী মাহমুদ ভিলূ বলেন, ইমারত নির্মান করা জায়গাটি ছিল মূলত ব্যারিষ্টার সাইফুদ্দিন সিদ্দীকীর মালিকানায়। তিনি মসজিদের নামে দান করেছেন। এই দানকৃত জায়গাটিতে ৪০/৫০ বছর ধরে মসজিদের অধীনে টিনসেড দোকান ছিল, যার ভাড়া মসজিদ কতৃপক্ষ নিত। সেই জায়গায় যখন মসজিদের আয়ের স্বার্থে শপিং কমপ্লেক্স নির্মান করছি তখন বাধা আসছে। সিডিএ বলছে তাদের জায়গা। এটা আসলে তাদের জায়গা নয়। আমরা এই বিষয়ে সিডিএর কারণ দর্শানোর জবাব দিবো।
এ বিষয়ে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এফ, এম কবির মানিক বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানের কোন টাকা কেউ মেরে খেতে পারেনা। যেই জায়গায় ইমারত নির্মান করা হচ্ছে সেই জায়গা মসজিদের জায়গা হিসাবেই ছিল। এই ইমারত নির্মান অবৈধ নয়। যারা আজ মসজিদের এই জায়গা নিয়ে জল ঘোলা করছে তারা তা রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য করছে। এখানের প্রতিটি হিসাব পুংঙ্খানুপুঙ্খভাবে কমিটির কাছে আছে। চাইলে যে কেউ নিতে পারে।
মসজিদের অধীনে এই ইমারত নির্মান বিষয়ে টাংকি পাহাড় জামে মসজিদের সভাপতি আবুল হাসনাত মোঃ বেলাল বলেন, আমিও এই মসজিদের একজন নিয়মিত মুসুল্লি। আমরা ছোটবেলা থেকে জানতাম ইমারত নির্মানের জায়গাটা মসজিদেরই। অনেক পূর্ব থেকেই এখানে মসজিদের ১৫টি দোকান ছিল। যার ভাড়া মসজিদ কতৃপক্ষ নিতো। মুসুল্লিদের পক্ষ থেকে আমরা চাই মসজিদের প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে মসজিদ কোষাগারে জমা হউক। কোন ব্যাক্তি যাতে শুভংকরের ফাকি দিয়ে মসজিদের টাকা তছরুপ করতে না পারে। এবং মসজিদের পূর্ব কমিটির মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। নতুন যে কমিটি হয়েছে সে কমিটি নিয়ে মুসুল্লিদের আপত্তি রয়েছে। তাই মুসুল্লিদের মতামতের ভিত্তিতে মুসুল্লিদের ভোট নিয়ে নিরপেক্ষ একটি নতুন কমিটি গঠন করা হউক। তাহলে কারু কোন দ্বন্ধ থাকেনা।