Thursday, November 5

চট্টগ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনে গড়িমসি: জোড় দখলে ইমারত নির্মানের অভিযোগ

0

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী খিল্লাপাড়া এলাকায় মৃত আব্দুল জলিলের ৮ সন্তানের মধ্যে আব্দুল হালিম বড় ছেলে। পিতার মৃত্যুর পর অংশনামা না হওয়া সত্বেও পূর্ব হতে পরস্পরায় নিজ নিজ সুবিধামতো অংশে ৮ ভাই বোন ভোগ দখলে থেকে বসবাস করে আসছিল। গত তিনমাস পূর্বে আব্দুল হালিম ৭ ভাই বোনের পাওনা অংশের তোয়াক্কা না করে মোট ৭ গন্ডা ৩ কড়া জায়গায় ভিটা, পুকুর, পুকুর পাড়ের মধ্যে সে একাই ৩ গন্ডা জবর দখল করে ইমারত নির্মান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে শান্তি শৃংখলা ভঙ্গের আশংকা দেখে অন্যান্য চাচা ও ফুফুর পক্ষে মোহাম্মদ এনাম বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালত, চট্টগ্রামে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৫ ধারায় বিগত ০১/১১/১৭ ইং তারিখে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা কালীন সময়ে আব্দুল হালীম ধরাকে সরা জ্ঞান করে তার অন্য ৭ ভাই বোনের অংশের জায়গা দখলে রাখার জন্য বহুতল ভবন নির্মানের জন্য রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে। তার এই হীন দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে অন্য ভাই বোনেরা তাদের অংশের জন্য বাধা দিতে আসলে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেয় বলে জানা যায়।

উপায়ান্তর না দেখে চাচা ও ফুফুর পক্ষ হয়ে মোহাম্মদ এনাম পুনরায় হাটহাজারী থানায় গত ২৫/১২/১৭ইং তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার নং ৩৬৪১ ।

হাটহাজারী থানার এস আই মাজেদুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা স্বিকার করেন। তিনি বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টন ছাড়া আব্দুল হালিম ঘর নির্মান করছে। যা নিয়ে তাদের আট ভাই বোনের মধ্যে বিরোধ চলছে। আমি শান্তি শৃংখলা ভঙ্গের আশংকায় কয়েকবার এসে বাধা দিয়েছি, কিন্তু আব্দুল হালিম বাধা না মেনে পুলিশ চলে গেলে পুনরায় কাজ করে। বিরোধ মিমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে ২৮/১২/২০১৮ইং তারিখে থানায় বৈঠকে বিরোধ মিমাংসার জন্য নোটিশ করেছিলাম। নির্দিষ্ট দিনে বাদী পক্ষ হাজির হল্ওে বিবাদী পক্ষ বৈঠকে হাজির হয়নি।

আব্দুল হালিমের বোন ফাতেমা বেগম জানান, পিতার মৃত্যুর পর আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ৮ ভাই বোনের অংশ আলাদা করে এখনো মাপা হয়নি। তবু ফরায়েজ অনুসারে বড় ভাই আব্দুল হালিম তার ভাগের জায়গা নেয়ার পরও আমাদের সাত ভাইবোনের জায়গার অংশ জোড়পূর্বক দখল করে ঘর তুলছে। আমরা পুরো জায়গা মাপতে বলি। সে রাজী হয়না। তার ছেলেরা উল্টাপাল্টা কথা বলে। গায়ের শক্তি দেখায়। কোর্ট ও থানার বাধাকে তোয়াক্কা করছে না। সে বলে থানা পুলিশ তার হাতের মুঠায়। এলাকার সমাজিদের সে অর্থ দিয়ে হাতে নিয়েছে। পুলিশ কয়েকবার বাধা দিতে আসলেও এখন আর আসেনা। এখন আমরা কোথায় যাবো।

আরেক উত্তরাধিকার আব্দুর রবের ছেলে মোহাম্মদ এনাম বলেন, আমি চাচা ফুফুদের পরামর্শক্রমে তাদের বৃদ্ধাবস্থার অপরাগতা স্বীকার করলে আমি বাদী হয়ে ১৪৫ ধারায় শান্তি শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগ এনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে মামলা দায়ের করি। এই মামলায় উভয়পক্ষের স্থিতবস্থা বজায় রাখার জন্য বলা হলেও জেঠা আব্দুল হালিম ও তার পুত্ররা আমার বাপ চাচা, ফুফুদের জায়গা দখলে নিয়ে ঘর নির্মান করছে। সে সমাজ, থানা, পুলিশ কাউকে তোয়াক্কা করছে না। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরকে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখায়। জেঠা ও তার পুত্ররা বলে, যে কোনভাবে দখল করে ঘর নির্মান করতে পারলেই হলো। তারপর আমাদেরকে এই জায়গা থেকে কেউ তুলতে পারবেনা।

এ বিষয়ে খিল্লাপাড়া সমাজ কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ বলেন, এনামের চাচা ফুফুরা আমাদের কাছে অভিযোগ করার পর আমরা সামাজিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আব্দুল হালিম বিষয়টি আমলে না নিয়ে সমাজকে অমান্য করে জায়গা না মেপে নিজের প্রয়োজনমতো দখল করে ঘর নির্মান করছে। এটা অবৈধ ও অনৈতিক।

এই বিষয়ে জানার জন্য ঘর নির্মানকারী আব্দুল হালিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলের পরিচয়ে একজন মোবাইল রিসিভ করেন। বাবা নাই বলে মোবাইল রেখে দেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.