চট্টগ্রামের ১০টি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুড ফর লাইফের খাবার বিতরণের ব্যাখা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)। বিষয়টি জানিয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইসকন প্রবর্তক শ্রী কৃষ্ণ মন্দির সাধারণ সম্পাদক দারুব্রহ্ম জগন্নাত দাশ স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে ইসকন ফুড ফর লাইফের খাবার বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে। মূলতঃ ইসকন রথযাত্রা উপলক্ষে মহানগরের ১০টি স্কুলে হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছিল। রথযাত্রার শুভেচ্ছা হিসেবে প্রতি বছরই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নেতিবাচক সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে।
হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিতরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার শুধুমাত্র একটি স্কুলে হিন্দু শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ’ মন্ত্র বলেছে। ইসকন শুধুমাত্র হিন্দুদের মধ্যেই ধর্মীয় প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি সব ধর্মমতের প্রতি ইসকন শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশের প্রচলিত সাংবিধানিক রীতিনীতি, আইনকানুন এবং সব ধর্মের প্রতি ইসকন শ্রদ্ধাশীল। ইসকনের আচরণে অনভিপ্রেতভাবে কেউ যদি কেউ যদি দুঃখ পেয়ে থাকেন বা কারো মনে আঘাত লেগে থাকে সে জন্য ইসকন দুঃখ প্রকাশ করছে। ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে ইসকন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
উল্লেখ্য গত কয়েকদিন ধরে এই ইস্যূতে সামাজিক যোগাযোগ ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারে গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
ইতোমধ্যে যে ১০টি বিদ্যালয়ের নাম এসেছে এসব বিদ্যালয় এবং ইসকন কার্যালয়ে যান গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। ডিচিএফআই’র একজন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন কয়েকটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাদের অজান্তে হয়েছে জানিয়েছে কেউ কেউ স্বীকার করেছে। তাছাড়া কিছু তথ্য প্রমান পাওয়ার পর সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানা।
এদিকে অপর একটি সুত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইসকন কার্যালয়ে গিয়ে তাদের চলমান ফুট ফর লাইফ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।