চট্টগ্রাম বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসটিসি) শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করেছে নগরীর জাকির হোসেন রোড়ে। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সড়কের উপর আগুন জ্বালিয়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ করলে সড়কের দুই পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। এ সময় এ কে খান গেইট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় যানযটের সৃষ্টি হয়।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রনব চৌধুরী ঘটনাস্থলে থেকে জানান, কিছু শিক্ষার্থী তাদের পরিক্ষার বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। এসময় তারা জাকির হোসেন রোড়ে অবস্থান নিলে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।
এদিকে একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক কতিপয় ছাত্রদের হাতে শাররীকভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ নামে ওই শিক্ষককে তার অফিস থেকে বের করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে শিক্ষার্থী।
এর আগে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলে শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত জানিয়ে ওসি বলেন, ‘শিক্ষককে কয়েকজন ছাত্র মিলে অফিস থেকে টেনে রাস্তায় নিয়ে আসে। তারপর কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়। এই কেরোসিন কোথা থেকে এলো হঠাৎ? নিশ্চয়ই পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে তারা কেরোসিন এনেছিল। সেই কেরোসিন শিক্ষকের গায়েও দিয়েছে, আবার রাস্তায় ঢেলে টায়ারও জ্বালিয়েছে। এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা, সেটা আমরা তদন্ত করে বের করব।’
শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ইউএসটিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলা করছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষক মাসুদ মাহমুদকে লাঞ্ছিত করার পর ওই শিক্ষার্থীরাই আবার নগরীর খুলশীতে ইউএসটিসি ক্যাম্পাসের সামনে প্রায় একঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর তিনি ইউএসটিসিতে যোগ দিয়েছেন।
ইংরেজি সাহিত্যের কোর্স কারিকুলামের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি কবিতা পড়াতে গিয়ে নারী-পুরুষের জৈবিক সম্পর্ক, বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়া, পোশাক নিয়ে ক্লাসে নিয়মিত আলোচনা করেন শিক্ষক মাসুদ মাহমুদ। সেসব বিষয়কে যৌন হয়রানি হিসেবে অভিযোগ তুলে ইউএসটিসির একদল শিক্ষার্থী গত এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন।
তবে মাসুদ মাহমুদের দাবি- ইংরেজি বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কয়েকজন শিক্ষককে চাকুরিচ্যূত করেন। এরপর তাদের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের একাংশ একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন।
এদিকে বেলা ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের কারণে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ইউএসটিসির প্রক্টর নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ইংরেজি বিভাগের একটি পরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টিসমাধানের চেষ্টা করছি।