অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাদমান ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৫৯ রান করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সাদমান ৭৬ রানে ফিরলেও দিন শেষে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব। আজ সকালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাকিব-রিয়াদ জুটি দ্বিতীয় দিন শুরু করেন।
দ্বিতীয় দিনের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। তবে নিজের ৮০ রানের মাথায় আউট হন সাকিব। চমৎকার এক ইনিংস খেলে সাকিবের বিদায় হয়।
এর আগে গতকাল প্রথম দিন ছয় ব্যাটসম্যান, একজন করে উইকেটরক্ষক ও অলরাউন্ডার এবং তিনজন স্পিনার দিয়ে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। এমন একাদশ দেখে চোখ যখন কপালে, তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস দেন সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। বুড়ো আঙ্গুলে ব্যাথা পাওয়ায় ঢাকা টেস্টে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিলো। তবে একাদশে নাম তুলেছেন তিনি, সঙ্গে লিটন দাসকে নিয়ে। কারন একাদশে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন মুশফিক। উইকেটের পেছনের দায়িত্বটা পালন করতেই রাখা হয়েছে লিটনকে। এসবের মাঝে দেশের ৯৪তম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট অভিষেক ঘটে ২৩ বছর বয়সী বাঁ-হাতি সাদমান ইসলামের।
তাই আরেক বাঁ-হাতি সৌম্য সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সূচনা করেন সাদমান। ইনিংসের প্রথম ওভারে বাউন্ডারি দিয়ে নিজের ও দলের রানের খাতা খোলেন সাদমান। তবে এরপর অনেক বেশি সর্তক হয়ে পড়েন সাদমান ও সৌম্য। তাই দ্বিতীয় বাউন্ডারির জন্য ১৩তম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশ। এবারও বাউন্ডারি এসেছে সাদমানের ব্যাট থেকে। ঐ ওভারে আরও একবার বলকে বাউন্ডারির স্পর্শও দিয়েছেন সাদমান। ফলে ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৪২ রান।
কিন্তু ১৬তম ওভারে বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে বিচ্ছিন্ন করে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অফ-স্পিনার রোস্টন চেজ। চেজের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে নিজেদের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন ৪২ বলে ১৯ রান করা সৌম্য। চট্টগ্রাম টেস্টে তার রান ছিল যথাক্রমে শুন্য ও ১১।
দলীয় ৪২ রানে সৌম্য ফিরে যাবার পর ক্রিজে আসেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা মোমিনুল হক। জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মোমিনুল এবারও বড় ইনিংস খেলার প্রত্যাশায় ছিলেন। তাই বেশ দেখেশুনেই খেলতে থাকেন মোমিনুল। মুখোমুখি হওয়া ২২তম বলে প্রথম বাউন্ডারির স্বাদ নেন মোমিনুল। দ্বিতীয় বাউন্ডারির জন্যও বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করেন তিনি। কিন্তু ঐ বাউন্ডারির কিছুক্ষণবাদে হতাশাজনক এক শট খেলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মোমিনুল। ক্যারিবিয় পেসার কেমার রোচের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন মোমিনুল। সেটি তালুবন্দি করতে মোটেও সমস্যা হয়নি চেজের । ২টি চারে ৪৬ বলে ২৯ রান করেন তিনি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ- ৩৮৪/৬